নাসরীন সুলতানা
সহযোগী অধ্যাপক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথমত, একজন ব্যক্তির যদি যোগ্যতা এবং লিডারশীপ দক্ষতা থাকে তবে তাকে দুইটার যে কোন একটি কেন গ্রহণ করতে হবে তার পেছনে কোন গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই। একই ব্যক্তি পরিবারের প্রধান এবং একটি অফিসের প্রধান হতে পারেন। একই ব্যক্তি অন্য যে কোন সংগঠন বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তাই যদি হয় তবে একই ব্যক্তি কোন দলের প্রধান হয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
কোন দল থেকে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন সেটি সংশ্লিষ্ট দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় যা নির্ভর করে দলের গঠনতন্ত্রের উপর। রাষ্ট্র আলাদাভাবে কোন দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে কিনা সে বিষয়ে কোন উপযুক্ত ব্যাখ্যা নেই। রাষ্ট্রের যদি সেই ক্ষমতা থেকে থাকে তবে একইসাথে কোন দলের সেক্রেটারি সংসদের প্রধানমন্ত্রীর পরের পদে নিযুক্ত হতে পারবে না বলে বিধান থাকা উচিৎ।
দ্বিতীয়ত, আমার কাছে মনে হয়েছে এই নিয়মটি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং কোন বিশেষ ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করার জন্য। কোন আইন যখন কোন বিশেষ ব্যক্তিকে বিপদে ফেলার জন্য করা হয় সেই আইন আর যাই হোক জনকল্যাণমুখী হতে পারে না। একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের আইন হওয়া উচিৎ ব্লাইন্ড মাইন্ডসেট থেকে। সেক্ষেত্রে যে কেউ সেই আইন দ্বারা সুবিধা পেতে পারে। আবার যে কেউ তার দ্বারা জবাবদিহিতার আওতায় আসতে পারে।
তার মানে কি আমি চাই না দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক? আমি অবশ্যই চাই দেশের রাজনীতিতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। সেই সাথে দলের ভেতরেও গণতন্ত্র ব্যবস্থা প্রচলিত হোক। কিন্তু আমি কোন বিশেষ ব্যক্তি বা পরিবারের যুগ যুগ ধরে সুবিধা পেয়ে আসছে বলে পরশ্রীকাতরতা থেকে কোন সিস্টেমের বদল চাই না। কারো যোগ্যতা থাকলে তার যোগ্যতাকে রেকগনাউজ করাটাও একটি ন্যায়বিচার। আমার কাছে মনে হয়েছে এই প্রস্তাব ব্যক্তি বিদ্বেষ থেকে তৈরি করা হয়েছে।
প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য এমন ব্যবস্থা চিন্তা করা উচিৎ যা দেখে কেউ মনে করবে না তাকে সামনে রেখে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সাথে নির্বাচিত সকলের জন্য সমান সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। সেই ব্যবস্থায় হতে পারে দেশের প্রধানমন্ত্রী সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের সাংসদদের দ্বারা ভোটে নির্বাচিত হবেন। হতে পারে সকল সাংসদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
