নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রায় ৩০ ঘণ্টা আগে নেত্রকোনা ও পটুয়াখালী জেলায় মোট ছয়টি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘটনাগুলো এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নেত্রকোনায় পাঁচ কেন্দ্র
নেত্রকোনার দুইটি আসনের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সদর উপজেলায় চারটি এবং নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে একটি কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত।
আগুনে তিনটি বিদ্যালয়ের কক্ষে থাকা ছয়টি বেঞ্চ ও দেয়ালের আংশিক অংশ পুড়ে যায়। আরও দুটি বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা পরিত্যক্ত দুটি বেঞ্চ পুড়ে যায়। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।
যে কেন্দ্রগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—
সদর উপজেলার পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্বধলা উপজেলার হিরনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বিদ্যালয়ের পুরোনো জানালা খুলে চটের বস্তায় কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কিছু বেঞ্চ ও দেয়ালের আংশিক ক্ষতি হয়। অন্য দুটি বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা পরিত্যক্ত বেঞ্চেও একইভাবে আগুন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার ও সংশ্লিষ্ট ইউএনও কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক জানান, কেন্দ্রগুলোতে গ্রাম পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নেত্রকোনা-২ আসনে পাঁচজন এবং নেত্রকোনা-৫ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পটুয়াখালীতে একটি কেন্দ্র
এদিকে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে। পটুয়াখালী-1 আসনের পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যালয় ভবনের নিচতলার একটি কক্ষের জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশের মসজিদে এশার নামাজ শেষে ফেরার পথে মুসল্লিরা আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌস আলম বলেন, আগুন দেখতে পেয়ে লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নেভান। ভোটের আগে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন জানান, আগুনে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
নিরাপত্তা জোরদার
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের আগে কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একাধিক কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের এসব ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটগ্রহণে কোনো প্রভাব পড়বে না।
