বাগেরহাট সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের স্থানীয় সভাপতি সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যার আগে সাদ্দামের স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন এবং পরে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তাদের ছোট্ট শিশুটিও রেহাই পায়নি—শিশুটিকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আত্মহত্যার পর ভিডিওতে দেখা যায় খাটের উপর একটি চেয়ার এবং সাদ্দামের স্ত্রী সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। কিন্তু তার পা খাটের উপর দাঁড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যায় চেয়ারের উপর থেকে ফ্যানে ফাস নিলে এভাবে চেয়ার সোজা দাঁড়িয়ে থাকবে না। চেয়ার পরে যাওয়ার কথা। তাছাড়া পা যদি খাটে ছোয় তাহলে তো এত সহজে ফাঁস নেওয়া যায় না। আবার বাচ্চা মেঝেতে যেভাবে পরে থাকতে দেখা যায় তাতেও সন্দেহ দানা বাঁধে। আবার কোন প্রকার পোস্ট মর্টেম ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে কবর দেওয়া হয় যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যায়নি। ফলে জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে যে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি সাদ্দাম দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের দমন–পীড়নের শিকার হয়েই তিনি কারাবন্দি। এই অবস্থায় তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে “সমন্বয়ক” নামধারী শিবির সংশ্লিষ্ট স’ন্ত্রা’সীরা এ বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য সাদ্দামের পরিবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে। তবে সে আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ফলে নিহত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে যেতে হয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট পর্যন্ত।
কারাগারে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কোনো কারণে ছাড়াই সাদ্দাম মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের ম’র’দেহ দেখতে পান। হাতকড়া খোলা না হওয়ায় তিনি তাদের ছুঁয়ে দেখার সুযোগও পাননি। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও জেল কর্তৃপক্ষ হাতকড়া খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর বেদনাবোধের সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি বলেন—“কৃষি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন না করলে আমি উঠে চলে যাব”—এমন মন্তব্য করে স্থান ত্যাগ করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাষ্ট্রের অবহেলা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
