ভোট আপনি দেবেন কিনা কিংবা দিলে কাকে দেবেন সেটি আপনার পছন্দ। কিন্তু আপনি যদি নারী হন, তবে আপনার জীবনভর যে নিগ্রহ চলেছে, তার কথা মনে করুন; আপনার যে পটেনশিয়াল ছিল কিংবা এখনো আছে, তা চার দেয়ালে জমে থাকা ধুলা আর মাকড়সার জাল পরিষ্কার করতে করতে শেষ হয়ে যাচ্ছে এ কথা ভেবে কষ্ট অনুভব করুন। আপনাকে সন্তান লালন-পালনের দোহাই দিয়ে উপার্জন করতে দেওয়া হয়নি; উপার্জন করতে না পেরে আপনি কখনো নিগ্রহের জাল কেটে বের হওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারেননি। আপনাকে যে ঘর ও সংসারের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, ক্রমেই তা আপনার জন্য জেল হয়ে উঠেছে। আপনি যাতে সেখান থেকে বের হতে না পারেন, তার জন্য আপনার চারপাশে কৃত্রিম এক লজ্জা ও কুসংস্কারের দেয়াল তৈরি করা হয়েছে।
আপনি সুস্থ, সবল, শক্তিশালী, কর্মঠ, বুদ্ধিমান। আপনি ভালো ফুটবল খেলতে পারেন, ভালো দাবা খেলতে পারেন; প্র্যাকটিস করলে ১০০ কেজি ভারোত্তোলনও করতে পারবেন। আপনি গণিতের জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারেন; ট্রাক চালাতে পারবেন, বিমান চালাতে পারবেন, রিকশা চালাতেও পারবেন।
আপনি চাইলে গাছের মগডালে চড়তে পারবেন, চাইলে সমুদ্র পাড়ি দিতে পারবেন। আপনি রান্না করতে পারেন, আবার অস্ত্রও চালাতে পারেন।
সুতরাং, আপনার অবারিত সম্ভাবনাকে ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে যারা সুগার-কোটিং কথায় দমিয়ে রাখতে চায়, তাদের ভোট দেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করুন। মনে রাখবেন—বদ্ধ ঘরের চাবি আপনার হাতে। আপনি চাইলে তালা খুলে খোলা আকাশে উড়ার স্বাদ উপভোগ করতে পারেন; আবার চাইলে সারা জীবনের জন্য চাবিটা অন্যের হাতে তুলে দিয়ে নিজে অন্ধকারেই কাটিয়ে দিতে পারেন।
আপনি দেশের অর্ধেক ভোটারের একজন। অতএব, দেশের চাবিও আপনার হাতে। যারা নারী স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক, তাদের “না” বলুন।
নাসরীন সুলতানা
সহযোগী অধ্যাপক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
