হামজা রহমান অন্তর
সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৯৪ লাখ। তবে ইউনূস সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় দেড় কোটিতে পৌঁছেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে সাত লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। এর অর্থ দাঁড়ায়, মোট দেড় কোটি প্রবাসীর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রবাসী এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়ে যান।
নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যানেও অংশগ্রহণের চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৮টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হলেও ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন আনুমানিক ৪ লাখ ৮৭ হাজার প্রবাসী। এর মধ্যে ডাকযোগে ফিরে এসেছে প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার ব্যালট। অর্থাৎ ব্যালট হাতে পাওয়ার পরও প্রায় আড়াই লাখ প্রবাসী ভোট প্রদান করেননি বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনুমোদিত প্রবাসী ভোটারের মধ্যেও প্রকৃত ভোটদানের হার প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি, আর বাকি প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট দেননি বা কার্যত নির্বাচন বর্জন করেছেন। আরও লক্ষণীয় যে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গত শুক্রবার পর্যন্ত জমা পড়া ভোটের সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজারের কিছু বেশি। এই সংখ্যা ধরে মোট দেড় কোটি প্রবাসীর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বাস্তবে ভোট দিয়েছেন প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রবাসী ভোটার নৌকা ব্যতীত ইউনূস সরকারের অধীনে পরিচালিত এই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
