নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগমুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় অগ্নিসংযোগ, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবান, নেত্রকোনা, ঝালকাঠির রাজাপুর, রাজশাহীর বাগমারা ও পটুয়াখালীসহ একাধিক স্থানে নির্বাচনি ক্যাম্প ও ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বগুড়া, পটুয়াখালী ও পঞ্চগড়সহ কয়েকটি জেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ঘটনাগুলোতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো।
পাঁচ জেলায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
নেত্রকোনা: সদর উপজেলার চারটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। পরে লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দরিজাগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঝালকাঠি (রাজাপুর): সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজারে জামায়াতে ইসলামীর একটি পুরোনো কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জামায়াত নেতারা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
বান্দরবান: শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় বিএনপির একটি অস্থায়ী নির্বাচনি প্রচারণা অফিসে গভীর রাতে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রচারণা সামগ্রী পুড়ে যায়।
রাজশাহী (বাগমারা): গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা জলপাইতলা এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পটুয়াখালী (দশমিনা): আলিপুর ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের নির্বাচনি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাশের দুটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত
বগুড়া (নন্দীগ্রাম): সোমবার রাতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।
পটুয়াখালী (বাউফল): পৃথক সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি দোকান থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পঞ্চগড় (আটোয়ারী): শোডাউনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা একে অপরকে দায়ী করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনে জনসমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাদের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সহিংসতা নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না।
