বাংলাদেশের একাত্তরের সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে তথাকথিত গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞরা। এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই। ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীতে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোট যুক্ত হলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী তা বাতিল করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘জনমতের’ আড়ালে গণভোট প্রভিশন তৈরির চেষ্টা আইনি শূন্যতা কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক বৈধতা তৈরির কৃত্রিম প্রয়াস।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অধ্যাদেশের ক্ষমতা দিলেও তা সীমিত জরুরি আইন প্রণয়নের জন্য। সংবিধান সংশোধনের একমাত্র পথ ১৪২ অনুচ্ছেদ, যাতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগে। সংসদ ভেঙে অধ্যাদেশে গণভোট তৈরি ৭(ক) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে, যা সংবিধান লঙ্ঘনকে চরম অপরাধ বলে।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (২০২৫) আদেশ’-এর নামে গণভোটের কথা উঠছে, কিন্তু এটি আইনি নয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এতে একাত্তরের সংবিধান পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী শাসনের পথ সুগম হবে।
নাগরিক সমাজের সামনে প্রশ্ন: সংবিধানবিরোধী প্রক্রিয়ায় নীরবতা না প্রতিরোধ? আইনজ্ঞরা বলছেন, এমন গণভোট গণতান্ত্রিক নয় রাষ্ট্রের মৌল কাঠামো দুর্বল করার ঝুঁকি। অংশগ্রহণ মানে সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করা।
