ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে অন্তর্বর্তী সরকার একের পর এক বড় অঙ্কের চুক্তি ও কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কালের কণ্ঠের শীর্ষ খবর ‘শেষবেলায় চুক্তি-কেনাকাটার হিড়িক’ এবং টাইমস অফ বাংলাদেশের ‘Exit-time project spree raises alarm’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত সরকারের নিয়মিত কাজ চালানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ব্যয়বহুল প্রকল্প ও চুক্তি অনুমোদনের তৎপরতা বেড়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের সঙ্গে বিমান ও জাহাজ কেনার চুক্তি, নতুন বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সমঝোতা। সবচেয়ে আলোচিত বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রকল্প (বিসিএপি)—প্রায় ৯৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প ২৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপিত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের দায়িত্বে ছিল এই প্রকল্প। এছাড়া প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব চুক্তি ও প্রকল্পের আর্থিক দায় নতুন সরকারকে নিতে হবে। শুরুতেই এই বিপুল বোঝা সামলানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিপুল বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ, খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে নেওয়া হয়েছে।
টাইমস অফ বাংলাদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে একের পর এক প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগকে ঘিরে জবাবদিহি, আর্থিক শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কালের কণ্ঠে উল্লেখ, নির্বাচনের সময় সরকারের নিয়মিত কাজের বদলে ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত নির্বাচনী পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জাল বিস্তার করবে এবং নতুন সরকারের হাত-পা বাঁধবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এই তৎপরতা রাজনৈতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করছে, নির্বাচনের আগে এসব চুক্তি ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য অর্থনৈতিক ফাঁদ সেট করার চেষ্টা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষবেলায় বড় প্রকল্প অনুমোদনের ফলে জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিতে পারে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতে পারে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে এই সব ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তের দায় নিতে হবে, যা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করবে।
দেশজুড়ে এই চুক্তি-কেনাকাটার তৎপরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদরা সরকারের কাছে জবাব চাইছেন কেন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসব সিদ্ধান্ত? এর ফলে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক নীতি কতটা প্রভাবিত হবে, তা দেখার বিষয়।