নিজস্ব প্রতিবেদক
উর্বরভূমির দেশ বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় ও বিপদজনক সময় অতিক্রম করছে—এমন মন্তব্য করে দেশের জনগণকে বিদেশি দখলদার ও উগ্রবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ’-এর আয়োজন করা এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
“বাংলাদেশ এখন উগ্রবাদী ও বিদেশি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে”
বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন,
“বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল সেই বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের সবচেয়ে বিপদজনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে উর্বরভূমি বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, সেই দেশ এখন রক্তেভেজা। উগ্রপন্থী মব সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও বিদেশি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে পুরো দেশ।”
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্বাধীনতা ও অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করতে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
“বাংলাদেশ এখন এক বিশাল কারাগার। পরিণত হয়েছে মৃত্যু উপত্যকায়,”—বলেন তিনি।
৫ আগস্ট সহিংসতায় ইউনূসের ভূমিকার অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিযোগের কেন্দ্রে এনে শেখ হাসিনা বলেন—
“ইউনূস হচ্ছেন সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি। মেটিকুলাস পরিকল্পনার মাধ্যমে ৫ আগস্ট জঙ্গিদের দিয়ে উগ্রবাদী হামলা করিয়ে আমাদের নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
“দেশে এখন লুটপাট, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, খুন বেড়েই চলেছে,”—অভিযোগ করেন তিনি।
“স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মাঠে নামুন” — শেখ হাসিনা
দেশের জনগণের উদ্দেশে তিনি কঠোর বার্তা দেন—
“এই দেশের সাহসী ও কর্মক্ষম মানুষ লড়াই ছাড়বে না। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের পাশে আছে। যে দেশ আপনাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেই দেশকে বিদেশি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এখনই মাঠে নামার সময়।”
“ইউনূসের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়”
শেখ হাসিনা বলেন,
“এই দখলদার ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে—এটি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোনেম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্না।
