নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজনীতিতে আদর্শের পরিবর্তন ও নাটকীয় মোড় যে কোনো স্তরে পৌঁছাতে পারে, তার এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত মুখ নুসরাত তাবাসসুম। এক সময় নিজের পছন্দমতো পোশাক পরার স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে সোচ্চার হওয়া নুসরাত এখন দেশের রক্ষণশীল ইসলামী রাজনৈতিক জোট ‘জামায়াত-এনসিপি’ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই আমূল রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তনের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
ছাত্র আন্দোলনের সময় নুসরাতের আন্দোলনের ভাষা ও পোশাকের ধরন নিয়ে রক্ষণশীল মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সেই পুরনো অবস্থানের ঠিক বিপরীত মেরুর একটি জোটে যোগদান এবং এমপি হওয়া নেটিজেনদের রীতিমতো অবাক করেছে। ফেসবুকে অনেকেই তাঁর পুরনো আন্দোলনের ছবি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের তুলনা করে তীর্যক মন্তব্য করছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি একসময় পোশাকের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, তিনি এখন কোন আদর্শে ইসলামী জোটের পতাকা হাতে তুলে নিলেন।
নেটিজেনদের মন্তব্যের ঘরে এখন নানা হাস্যকর ও বিতর্কিত কথার মেলা বসেছে। সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে এক নেটিজেনের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, যেখানে বলা হয়েছে, “এখন আর আন্দোলন করা লাগবে না, আপনি চাইলে পোশাক ছাড়াই সংসদে যেতে পারবেন”। নুসরাতের এই ‘ইউ-টার্ন’ বা আদর্শিক অসংগতি নিয়ে তৈরি হওয়া ট্রল এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নুসরাতের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন সাহসের, অন্যদিকে তেমনই চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর পুরনো সমর্থকরা একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখলেও নতুন জোটের সমর্থকদের কাছে তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনা নিয়ে নুসরাত তাবাসসুম কিংবা তাঁর জোটের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ।
