ফোরটিন ডেস্ক : সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বড় রদবদলে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক বিন্যাসের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণের পর আলোচনা শুরু হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একই সঙ্গে দুই জন প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁকে এই মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অধীনে দুই জন প্রতিমন্ত্রী কাজ করবেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট, ২০২৪) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শপথ নেন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। সেখানে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। একই অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এছাড়া চার জন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আন্দালিব রহমান পার্থ এবং সাচিং প্রু জেরী।
সূত্র মতে, হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়াই শেষ নয়; আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিএনপির জোরালো উপস্থিতি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের স্বার্থেই এই অভিজ্ঞ কূটনীতিককে টেকনোক্র্যাট পদে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া শামা ওবায়েদ ইসলামও নিজ পদে বহাল থাকছেন। ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একই সময়ে দুজন প্রতিমন্ত্রীর কাজ করার এক বিরল অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকার বিষয়ে আইনি বা প্রশাসনিক কোনো বাধা আছে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “এক মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে কাজের কোনো অসুবিধা নেই, বরং সমন্বয় আরও বেগবান হয়।” তিনি আরও জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন দ্রুতই জারি করা হবে।
দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে টানা কাজের সুবাদে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্রনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা থাকাকালেও তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সিভিল এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ইস্যু তদারকি করেছেন। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
