নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে প্রবেশ ও কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সাথে লঞ্চকর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসা করার নামে জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে আপস করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে অবস্থানরত ‘প্রিন্স আওলাদ’ নামের একটি লঞ্চে এই অপ্রীতিকর ও বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর অধীন জোরপূর্বক ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় (চাঁদাবাজি) এবং বেআইনি জনসমাবেশ ঘটানো দণ্ডনীয় অপরাধ। একইসাথে নৌ পরিবহন আইন ও সদরঘাট টার্মিনাল নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী যাত্রী ব্যতীত অনুমোদনহীন ব্যক্তির প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌ পুলিশ সদরঘাট টার্মিনালের নিরাপত্তা ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করলে লঞ্চকর্মীরা পরিচয়পত্র দেখতে চান, যা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।
পরবর্তীতে জবি শাখা ছাত্রদলের পদধারী ও বহিষ্কৃত কর্মীসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফোন ভাঙা ও চিকিৎসার খরচ বাবদ লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে অর্থ দাবি করেন।
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে ছাত্রদল কর্মীরা ধাক্কাধাক্কি করে এবং তাঁদের জোরপূর্বক ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল জানান, চাঁদাবাজির দায় দল নেবে না এবং ঘটনার সাথে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুনাম রক্ষায় টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।
