নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য মান্যবর সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। হামলার ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজ নিজ অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা রাখতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই অবস্থান ও সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসাথে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং দ্য প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪ অনুযায়ী সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তার তদারকি করে থাকে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে, এতে চারজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
উক্ত ঘটনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দায়িত্বে অবহেলা ঢেকে রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহি থেকে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলাকে জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর আঘাত উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন সুশীল সমাজ।
টিআইবি জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী যদি নিজেদের অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক সংস্কারে ব্যর্থ হয়, তবে বাক-স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
