নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : খুলনার রূপসা উপজেলায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ১৫ দিনের মাথায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন আক্তার ঢালী (৫০) নামের এক ব্যক্তি। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে (২৫) ঠিক ৫০ দিন আগে গত ১৫ আগস্ট দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছিল।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পত্তি ও শারীরিক সুরক্ষার আইনগত মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সাথে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুযায়ী জীবনের ঝুঁকি থাকা ব্যক্তি কর্তৃক থানায় লিখিত আবেদন বা জিডি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষামূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) আঞ্চলিক আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশাসনিক অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় করা জিডিতে (জিডি নং-১৪১২, তারিখ: ২৩/০৯/২০২৬) আক্তার ঢালী স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, ছেলে হত্যা মামলার আসামি মুনজিল শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদনের পর পুলিশ জিডি নথিভুক্ত করলেও পরিবারটিকে কোনো কার্যকর ও ব্যবহারিক আইনি সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়নি।
পুলিশের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শুধু রূপসা উপজেলাতেই ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা জেলাজুড়ে ৩৩টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
ঘটনার পর রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ তদন্ত শুরুর কথা নিশ্চিত করে দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার আক্তার ঢালী ও তাঁর ছেলের জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
