ফোরটিন ডেস্ক : হঠাৎ করেই প্রবল বৃষ্টি ও প্রবল বজ্রঝড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ও এর আশপাশের এলাকা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন ব্যস্ত সড়ক ও সড়কপথ মুহূর্তে নদীতে পরিণত হয়েছে। এতে জলজটে আটকে পড়েছে শত শত যানবাহন, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন সাধারণ নগরবাসী।
বিশেষ করে কুইন্স ও ব্রুকলিনের বেশ কয়েকটি প্রধান সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে পানি জমতে দেখা যায়। প্লাবিত পানির কারণে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। বুশউইকসহ নিচু এলাকাগুলোতে পানির উচ্চতা এতটাই দ্রুত বৃদ্ধি পায় যে অনেক চালক গাড়ি ফেলে ছাদে উঠে আত্মরক্ষা ও সহায়তার জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়ার্নিং’ বা আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়। এই টানা বৃষ্টি ও ওভারফ্লো ড্রেনেজের প্রভাব পড়েছে নিউইয়র্কের বিখ্যাত সাবওয়ে নেটওয়ার্কে। বহু লাইনে ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে এবং বেশ কিছু রুটে সার্ভিস সাময়িকভাবে পরিবর্তন বা বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুধু নিউইয়র্ক সিটিই নয়, প্রতিবেশী নিউ জার্সি ও লং আইল্যান্ডেও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এই ঝড়। নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে পানিতে আটকে পড়া ৬৯ জন বাসিন্দাকে এয়ার র্যাফট বা ফোলা নৌকার সাহায্যে নিরাপদে উদ্ধার করেছে জরুরি উদ্ধারকারী দল। অন্যদিকে লং আইল্যান্ডের আটলান্টিক বিচে সম্ভাব্য টর্নেডোর আঘাতে সান অ্যান্ড সার্ফ বিচ ক্লাবের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় এলাকাটিতে জরুরি অবস্থা (স্টেট অব ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বাসিন্দাদের, বিশেষ করে বেসমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক ঝুঁকি বা পানির গর্ত এড়াতে প্লাবিত রাস্তায় হেঁটে বা গাড়ি নিয়ে চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও এই ঘটনা নিউইয়র্কের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
