নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন পয়েন্টে বালু ও পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি ও জামায়াতে ইসলামীর রোকন আনোয়ার হোসেন।
শুক্রবার রাতে বিশ্বম্ভরপুরের চালবন পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন শাল্লা উপজেলার উজানগাঁও এলাকার শামছু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনোয়ার হোসেন সুনামগঞ্জ শহরের মাদানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মেসে বসবাস করতেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তিনি নিজেকে দলটির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব খাটালেও পরবর্তীতে তাঁর জামায়াত যুক্ততার বিষয়টি প্রকাশ পায়। অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ও তাঁর ভাই ‘স্টার নিউজ’-এর প্রতিনিধি এবং সাবেক শিবির নেতা আমির হোসাইন বিভিন্ন খাতে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেন। কয়েক মাস পূর্বে তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী এলাকা থেকেও চাঁদা তোলার সময় আমির হোসাইন আটক হন এবং তাঁর একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত এই সিন্ডিকেটটি ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে আসছিল। শুক্রবার চালবন পয়েন্টে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করলে ক্ষুব্ধ জনতা আনোয়ার হোসেনকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে পুলিশে সোপর্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ‘ওয়ান টিভি’ নামক স্থানীয় অনলাইন মাধ্যমের পরিচালক শহিদনূর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সংবাদকর্মী ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, একটি সংগঠিত চক্র সাংবাদিকতার ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন বালুমহাল, পাথরমহাল ও সরকারি দপ্তরকে জিম্মি করে ফায়দা হাসিল করছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
