নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদারীপুরের শিবচরে সম্পা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। শুধু মা-কেই হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি ঘাতক; সম্পার এক বছর বয়সী অবুঝ শিশুসন্তান আবিরকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে আড়িয়াল খাঁ নদে। এই বর্বরোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে শিবচর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের রোমহর্ষক এই ঘটনার বিবরণ দেন।
এর আগে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি খান বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকার একটি ঝোপজঙ্গল থেকে সম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সম্পা নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সম্পার স্বামী একটি মামলায় কারাগারে থাকার সুযোগে তেরখাদার অধিবাসী ও শিবচরের ভাড়াটিয়া ফারুক মোল্লার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১৯ আগস্ট সম্পা ও তাঁর শিশুসন্তানকে নিজের বাসায় নিয়ে যায় ফারুক। সেখানে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে পরিত্যক্ত জঙ্গলে লাশ ফেলে রাখে। পরে ঘটনা চেপে ঢাকা ও আলামত নষ্ট করতে অবুঝ শিশু আবিরকেও নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদে ভাসিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় নিহত সম্পার বাবা শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে মাদারীপুর র্যাব-৮ ও পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর থেকে ঘাতক ফারুককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ধর্ষণের পর মা ও শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে বাসাবাড়ি থেকে নিহতের স্বর্ণালংকার ও পোড়ানো কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার জানান, নদে ভেসে যাওয়া শিশু আবিরের মরদেহ উদ্ধারে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফারুকের বিরুদ্ধে এর আগেও গাড়ি চুরির একাধিক মামলা ছিল। এই পাষণ্ডকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
