ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবের সময় গ্যারেজে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় ট্যাম্পার ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্যাম্পা বে এলাকার অটো ডিলার মাইকেল মারফির গ্যারেজে রাখা ২০২১ মডেলের একটি ‘টেসলা মডেল এস প্লেইড’ গাড়িতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসন এবং ফেডারেল অটোমোবাইল সুরক্ষা আইনের আওতায় বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নীতিসমূহ প্রতিপালনের বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হলে যানের ব্যাটারি থার্মাল রানঅ্যাওয়ে প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত মানদণ্ড বহাল থাকা প্রয়োজন।
ট্যাম্পার স্থানীয় আদালত এবং ন্যাশনাল ট্রাফিক সেফটি বোর্ড যৌথভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির কারিগরি ত্রুটি ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত পরিচালনা করছে। গ্রাহক নিরাপত্তা ও ব্যাটারি নকশার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সক্রিয় রাখা হয়েছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হলেও একটি উদ্ধারকারী দল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মারফির পরিবারকে নিরাপদে বের করে আনে।
ভুক্তভোগী মাইকেল মারফির দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, “পানিতে ভিজলে টেসলার ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে জেনেও প্রতিষ্ঠানটি অসতর্কভাবে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি বিক্রি চালিয়ে গিয়েছে।”
হারিকেনের সময় গ্যারেজে প্রবেশ করা জলোচ্ছ্বাসের পানিতে টেসলার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি স্পর্শ করামাত্র থার্মাল রানঅ্যাওয়ে প্রক্রিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত তাপ উৎপন্ন হয়ে আগুনের সুপাত ঘটে।
দীর্ঘ এক দশক ধরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই মারাত্মক সুরক্ষাজনিত ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও সমাধান না করায় টেসলার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আদালতে দায়েরকৃত মামলাটির চূড়ান্ত শুনানির পর নির্ধারণ হবে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালির বিপরীতে গ্রাহককে কী পরিমাণ অর্থ জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
