সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এই অনুসন্ধানের পরিধি কেবল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং আসিফ নজরুলসহ বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন লেখক ও নাট্যকার অদিতি করিম।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অন্যান্য অভিযোগ দুদকের দেওয়া তথ্যমতে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়নে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পছন্দসই পদায়নে আরও ২ কোটি টাকাসহ মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে চার সদস্যের তদন্ত দল কাজ করছে।
তবে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ অর্থ কমিশন না দিলে অর্থ ছাড় করা হতো না, যার তদারকি করতেন তাঁর কথিত প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলম। এছাড়া ঢাকা ওয়াসা-র এমডি পদে আব্দুস সালামকে নিয়োগে ১০ কোটি টাকা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ২০ কোটি টাকা এবং সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিষ্পত্তিতে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে জেলাভেদে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা লেনদেন এবং সুইজারল্যান্ডে টাকা পাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে সম্পদ গড়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কেবল আসিফ মাহমুদ নন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে অন্যান্য শীর্ষ উপদেষ্টারাও দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ড. মুহাম্মদ ইউনুস: প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে ফ্রান্সে গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকল ফাউন্ডেশনে অনিয়ম করে ১৫০ কোটি টাকা পাঠানো এবং গ্রামীণ আমেরিকায় ১২০ কোটি টাকার নতুন নিয়োগসহ বিদেশে তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দায়িত্বকালীন সময়ে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি অনুমোদন, জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট অনুমোদন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার ও করছাড় সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি তোলা হয়।
- আসিফ নজরুল: সাবেক আইন ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১৮ মাসে ২৮২ জন সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে শতকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া ২৫২ জন বিচারককে একযোগে বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নতুন ২৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদনের বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
- সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: পরিবেশ উপদেষ্টার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকী সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর অবৈধ সম্পদ কেনাবেচা, পরিচালনা ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
এছাড়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নূরজাহান বেগম ও আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধেও দুদকে লিখিত অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের স্বার্থে এসব দুর্নীতিরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অদিতি করিম।
অদিতি করিম : লেখক ও নাট্যকার
