নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার দিতে হবে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও মনোনয়ন ফি ৬ হাজার ডলার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০, ট্রেজারার ৩ হাজার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ২ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া একাধিক সম্পাদকীয় পদে ফি ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রত্যেকটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি নগদে জমা দিতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের পর প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।
বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের পরিচিতিতে সংগঠনটিকে নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট ও নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশ্য ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কমপেনসেশন শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন ফি-এর পরিমাণ নিয়ে কমিউনিটিতে মূল আলোচনা হচ্ছে, নন-প্রফিট সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের পদগুলো বেতনভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে এত বেশি অর্থ নির্ধারণের কারণ কী এবং এই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল’ ও ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে সভাপতি পদে ৬ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলারের মনোনয়ন ফি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মনোনয়ন ফি হিসেবে এই পরিমাণ অর্থ তাঁর কাছে অযৌক্তিক মনে হয়।
কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ তারিকুল ইসলাম মিঠুও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বছর মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য শুধু মনোনয়ন পেপারের ফি হিসেবে ৬ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন করেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?”
এদিকে মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ ও এ অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে আমেরিকা বাংলা থেকে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংগঠনটির ১০০ শতাংশ আয় কনট্রিবিউশন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ কমপেনসেশন ছিল শূন্য ডলার। সংগঠনটির ওই বছরের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৬৭৪ ডলার।
এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর।
মনোনয়ন ফি নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির অনেকের আগ্রহ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকে।
