রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ও ‘প্রথম আলো’ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ক্বারী মুয়াজ বিন আব্দুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বরের সেই বর্বরোচিত ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া এই অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন।
আদালতের নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুয়াজ বিন আব্দুর রহমানসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা প্রথম আলোর মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। মামলার তদন্তকারীদের মতে, ঘটনা ঘটার পূর্বে ও চলাকালীন সময়ে আসামি মুয়াজ উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হামলাকারীদের সহিংসতায় উৎসাহিত করেছিলেন। গত ৭ জুন তিনি প্রথম আলোর মামলায় জামিন লাভ করেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৩ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সংঘবদ্ধ উগ্রপন্থী ও হামলাকারীরা প্রথমে কারওয়ান বাজারের প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে হামলাকারীরা নিকটস্থ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে অবস্থিত দ্য ডেইলি স্টার ভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিন তলায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। সে সময় ভেতরে প্রায় ২৯ জন সাংবাদিক ও কর্মচারী আটকা পড়ে জীবন ঝুঁকিতে ছিলেন।
ঘটনার পর ২২ ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। দ্য ডেইলি স্টারের মামলায় আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা এবং প্রথম আলোর মামলায় আনুমানিক ৩৪.৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের অধীনে অজ্ঞাতপরিচয় ৩৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা দুটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান প্রধান অনেক আসামি এবং উসকানিদাতারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নজিরবিহীন এই হামলার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো মামলার মূল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশ। এতে একদিকে তদন্তের গতি নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, অন্যদিকে মূল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
