আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের পাঁচ দিনের গুরুত্বপূর্ণ তুরস্ক সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ দেখা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন জোরদার করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সফরকালে তুর্কি ড্রোন ও উন্নত প্রযুক্তি পরিদর্শনসহ বগুড়ায় যৌথ উদ্যোগে ড্রোন তৈরির সিদ্ধান্তের খবর দিল্লির নীতি-নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কের তৈরি আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিশেষ ধরনের আর্টিলারি ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো সরাসরি পরিদর্শনের পাশাপাশি দেশটির উচ্চপদস্থ সেনাকর্তাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত বৈঠকও সম্পন্ন করেন তিনি। এর আগে গত জুন মাসে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার লক্ষ্যে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের এই প্রকাশ্য সামরিক সখ্যের নেপথ্যে পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে পাকিস্তানের। কাকতালীয়ভাবে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের আঙ্কারা সফরের পরপরই বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। ফলে ইসলামাবাদ, আঙ্কারা এবং ঢাকার মধ্যে একধরনের ত্রিমুখী কৌশলগত অক্ষ গড়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেই তুরস্কের থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান সরকার গঠন করলেও তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের এই উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণ সমান তালে এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তের নিকটবর্তী বগুড়ায় যৌথ উদ্যোগে ড্রোন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত ঢাকাকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে এক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত তুলনামূলকভাবে শান্ত ও নিরাপদ থাকলেও, বাংলাদেশ যদি তুরস্ক ও পাকিস্তানের মদতে সেনাশক্তি বৃদ্ধি করে, তবে তা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ভারত-পাকিস্তান কোনো কারণে মুখোমুখি হলে বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে নয়া দিল্লিকে চাপে ফেলার যে মনস্তাত্ত্বিক ছক ইসলামাবাদ কষছে, তাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে ঢাকার সাথে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।
