আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অঙ্গনে এক অনন্য পেশাগত সমৃদ্ধি অর্জন করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম কোর্ট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ (SCOTUS)-এ আইনজীবী হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
এই ঐতিহাসিক অনুমোদনের সুবাদে তিনি এখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের, আবেদন উপস্থাপন এবং মক্কেলের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আইনি লড়াই পরিচালনা করার পূর্ণ যোগ্যতা ও অধিকার অর্জন করলেন।
নিজের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বড় অর্জনের খবর নিশ্চিত করে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এটিকে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of the United States-এ Admitted Attorney at Law হিসেবে আমি গর্বিত।”
যুক্তরাষ্ট্রের জটিল বিচার ব্যবস্থায় দেশের শীর্ষ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়াকে অত্যন্ত বিরল ও মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই যোগ্যতা অর্জনের জন্য একজন আইনজীবীকে ন্যূনতম তিন বছর যেকোনো অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বারে সুনামের সাথে প্রাকটিস করতে হয়। একইসাথে সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই নিবন্ধিত এমন দুইজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর আনুষ্ঠানিক সুপারিশপত্র এবং সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষ শপথ গ্রহণ করতে হয়।
উল্লেখ্য, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মাঝে অত্যন্ত পরিচিত ও আস্থাভাজন একজন আইনজীবী। মূলত অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) আইন ও জটিল আইনি বিষয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দিয়ে আসছেন। আইন পেশার পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কল্যাণমুখী কাজেও তাঁর নিয়মিত ও জোরালো অংশগ্রহণ রয়েছে।
তাঁকে প্রদত্ত এই বিরল সম্মাননার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী আইনজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রবাসীদের মতে, আন্তর্জাতিক বিচারিক অঙ্গনে মঈন চৌধুরীর এই অনন্য স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তরুণ ও উদীয়মান বাংলাদেশি আইনজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
