লেখকঃ সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা।
তুরাগের পানি আজও সাক্ষী।মিছিল করার “অপরাধে” সাতজনকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনজনের লাশ ভেসে উঠলেও চারজন এখনো নিখোঁজ। এই হলো আজকের রাষ্ট্রের চরিত্র। এবং কোন গোষ্ঠী কোন দল হত্যা করেছে বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে কিন্তু এই দেশের গণমাধ্যম তা প্রচার করতে পারে না কারণ তাদের হাত পা বাঁধা তাদেরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। গণমাধ্যমের বাক স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে। আর বাংলাদেশের মানবাধিকার মৃত হয়ে গেছে। যে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই সেই দেশে গণতন্ত্র নেই পরিষ্কার। আজকে যারা ক্ষমতায় সিংহাসনে বসে অতীত বর্তমান সবকিছু ভুলে গেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি ক্ষমতা চিরকাল থাকবে না পরিবর্তন হবে আপনি কি করেছেন তার উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে হয়তো তার পরিণতি অনেক ভয়ঙ্কর হবে কারণ তা মেনে নিতে হবে আপনি নিজের কারণেই পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন সেই পরিস্থিতি আপনাকে আঘাত করবেই। আর হয়তো আপনারা ভাবছেন আওয়ামী লীগ আসবেনা আওয়ামী লীগ আসবে এই বাংলাদেশে ৭৫% জনগণ পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে রাজপথে। এবং এই শব্দটা ৫ মিলিয়ন সত্য। এবং বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর নীতি নির্ধারকদের যে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় বাংলাদেশকে জনগণের বিস্ফোরণ ঘটবে এবং তার নেতৃত্বে থাকবে মহান মুক্তিযুদ্ধের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তা দেশের মানুষের জনগণের দাবি কোন দলের নয়, পরিবর্তনের জন্য দেশের মানুষ এই রাজপথে আন্দোলন করবে সেই সময় বেশি দূরে নয় খুব কাছে।
যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এশিয়া উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন, যার মূলনীতি শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি। যে সংগঠনের হাতে আঁকা হয়েছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সংগঠনের ২৭ হাজার কর্মী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিল—আজ সেই ছাত্রলীগকেই অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঐতিহ্যের উপর হামলা, ইতিহাসের উপর হামলা
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলার মাটি-মানুষের সাথে মিশে আছে। বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর—প্রতিটি অধ্যায়ে ছাত্রলীগ সামনে ছিল। আজ সেই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের হাজার হাজার কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। মিছিলে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন:এটা কি রাষ্ট্র? নাকি প্রতিহিংসার মঞ্চ?
. গণমাধ্যম নীরব, আকাশ-বাতাসে আহাজারি
বাংলাদেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে এই নির্মমতা নিয়ে প্রচার নেই বললেই চলে। অথচ ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামে ভুক্তভোগী পরিবারের কান্না ভেসে বেড়াচ্ছে। মায়ের আর্তনাদে ভারী হচ্ছে বাংলার আকাশ।
আগামীর উদীয়মান ছাত্রনেতাদের এভাবে হত্যা করার পর প্রশ্ন জাগে—দেশে মানবাধিকার আছে? আইনের শাসন আছে? বিরোধী দল-মত দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
. গণতন্ত্র নাকি গণকবর?
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো—সবাই কথা বলবে, সব মতের সুযোগ থাকবে। কিন্তু আজ কী হচ্ছে? চারিদিকে শুধু লাশের খবর। সামাজিক মাধ্যমে, সংবাদ মাধ্যমে—শুধু মৃত্যু।
আজ ছাত্রলীগ করা অপরাধ হলে, কাল ছাত্রলীগ না করাটাই অপরাধ হবে।
আজ “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়া অপরাধ হলে, কাল “জয় বাংলা” না বলাটাই অপরাধ হবে।
কারণ ইতিহাস এভাবেই ঘুরে। ক্ষমতা কারো চিরকাল থাকে না।
. বিচারহীনতার রাজ্য
একজন মানুষ—নামে মামলা নেই, সাক্ষী নেই, প্রমাণ নেই। তবু তাকে গ্রেফতার করে খুশিমতো মামলা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুন্দর একটি রাষ্ট্রকে আজ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নেই, মানুষের নিরাপত্তা নেই।
বিচারপতি নীরবে কাঁদে। কারণ বিচার বিভাগ আজ সরকারের নীতিনির্ধারকদের কথায় চলে। বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছে।
শেষ কথা: হিসাব হবে
আজ ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগের উপর যে জুলুম, নির্যাতন, অপশাসন চালানো হচ্ছে—এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। জনগণ ক্ষমা করবে না। জনগণ সময়মতো হিসাব বুঝে নেবে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। কারণ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। ইতিহাস তার আপন গতিতে ফিরে আসে।
তুরাগের রক্ত লাল হয়েছিল একবার। আর লাল হতে দেওয়া যাবে না।
