ফোরটিন ডেস্ক : চলমান অভিবাসন কড়াকড়ি ও নিরাপত্তা নীতি আরও জোরদার করে পৌনে ২ লাখেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিপুল সংখ্যক ভিসা বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করার পেছনে মূল কারণ হলো ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দেওয়া, প্রতারণা ও জালিয়াতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা।
পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, অপরাধমূলক কাজের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, মদ্যপ অবস্থায় বা বেপরোয়া গাড়ি চালানো, চুরি, মাদক লেনদেন, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন এবং অর্থ আত্মসাৎ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত ভিসা নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ারই অংশ, যার লক্ষ্য আমেরিকানদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে:
বার্থ ট্যুরিজম: উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস শতাধিক বাবা-মায়ের ভিসা বাতিল করেছে, যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন।
গুরুতর অপরাধী: শিশু বলাৎকার, ডজনেরও বেশি শিশু পর্নোগ্রাফি বা ছবি-ভিডিও রাখা ব্যক্তি এবং নিজ ছাত্রকে যৌন হয়রানি করা শিক্ষকের ভিসা বাতিল হয়েছে।
রাজনীতি ও চরমপন্থা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা একাধিক ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিষয় ও শত্রুভাবাপন্ন উপাদান: কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের হয়ে অপতৎপরতা চালানো ব্যক্তি, ইরান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিক এবং কুয়েতের এক নাগরিক—যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষতি করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন ও আমেরিকানদের ‘শত্রু’ মনে করতেন।
অর্থনৈতিক অপরাধী: চিকিৎসা সেবার ভুয়া ব্যবসা খুলে ৫০ লাখ ডলার জালিয়াতি করা ব্যক্তি এবং ভুয়া বিনিয়োগ নথি দিয়ে ভিসা নেওয়া প্রতারকদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসনের ওপর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগে চরম কঠোরতা অবলম্বন করে আসছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় থাকবে।
