লেখকঃ সাইফুর রহমান
কিছু তরুণ কেবল একটা মিছিল করেছিল। কোথাও কোনো হামলা করেনি, সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনায় একটি ঢিলও ছোড়েনি। অথচ সেই মিছিলের পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় ৭ জন। ইতিমধ্যেই ৩ জনের বীভৎস লাশ ভেসে উঠেছে তুরাগ নদীর বুকে! লাশগুলোর অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের ওপর কী পরিমাণ নৃশংস ও অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এখনো নিখোঁজ বাকি ৪ জন তরুণ।
গত দুই বছর যাবত প্রকাশ্য দিবালোকে ‘মব ভায়োলেন্স’ করে পিটিয়ে মানুষ মারা হয়েছে। এখন কৌশল বদলেছে—জনসম্মুখে আর মারা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এমন দুটি পৈশাচিক ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার পর, এখন আর প্রকাশ্য গুম বা হত্যা ঘটছে না। তার বদলে লাশগুলো রাতের আঁধারে ফেলে দেওয়া হচ্ছে নদীতে।
বিগত দুই বছর যাবত গড়ে প্রতিদিন নদীতে কী পরিমাণ লাশ পাওয়া যাচ্ছে, সেই হিসাব কি কেউ রাখছে? এই মানুষগুলোর অপরাধ আসলে কী ছিল? তারা যদি অপরাধীও হয়ে থাকে, তবে বিচারহীনভাবে এভাবে কি মেরে ফেলার আইন আছে? দীর্ঘ সময় ধরে শুধু ‘গুম’ করার কত রকম গল্প শুনেছি। কিন্তু দেখা গেল চব্বিশের ৫ই আগস্টের পর সেই তথাকথিত গুম হওয়া মানুষগুলোর অনেকেই বেশ সুস্বাস্থ্য আর চেহারার উজ্জ্বলতা নিয়ে ফিরে এসেছে। তবুও একদল অন্ধ মানুষ বিশ্বাস করে যে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন হয়েছে।
অথচ গত দুই বছরে যে পরিমাণ বাস্তব লাশ পাওয়া গেছে—কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ভাত খাইয়ে পিটিয়ে মারা, কখনো পানি চাইলে পানি না দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা, কখনো কোপানো, কিংবা জীবন্ত পুড়িয়ে মারার শত শত ছবি ও ভিডিও দেখার পরও একশ্রেণীর মানুষের বিবেক একটুও নাড়া দেয় না, তাদের ঘুম ভাঙে না।
তারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে চব্বিশের জুলাইয়ে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণহত্যা’ হয়েছে; কিন্তু তারা চোখ বন্ধ করে থাকে যখন দেখে তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হওয়া আরিফ, সুমন আর বিপ্লবের নিথর ও ক্ষতবিক্ষত লাশ! তারা বিশ্বাস করতে চায় না যে এদের পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় তামাশা হলো—এরাই নাকি এই সমাজের ‘নিরপেক্ষ’ মানুষ, এরাই নাকি আমাদের ‘বিবেকবান’ সুশীল সমাজ!
আহা চব্বিশ! অনেক কিছু শিখিয়ে গেল, তার চেয়েও বড় কথা—বহু চেনা মুখের আসল মুখোশটা চিনিয়ে দিয়ে গেল।
