নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের সংকটে ফেলার এক চাঞ্চল্যকর অপচেষ্টা সামনে এসেছে। দেশের ক্রিকেটের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করতে, আইসিসির সকল তহবিল বন্ধ করতে এবং আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গত এপ্রিলে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিলেও তিনি বরাবরই নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে আসছেন। আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠিতেও তিনি নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবেই উল্লেখ করেছেন এবং তাকে আবার দায়িত্বে ফেরানোর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে শুক্রবার খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় এটি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।
তবে আইনজীবীর মাধ্যমে আইসিসিতে পাঠানো তাঁর সেই বিশাল চিঠিটি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে, যেখানে আমিনুলের নিজস্ব স্বাক্ষরও রয়েছে। গত রোববার পাঠানো সেই চিঠিতে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা প্রক্রিয়া এবং গত ০৭ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রহসনমূলক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির পরিচালকবৃন্দ ও প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, একটি অবৈধ অ্যাড-হক কমিটি রাজনৈতিকভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করে এই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। চিঠিতে আইসিসিকে অবিলম্বে এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি না দিতে এবং আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠির একটি অংশে ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ শিরোনামে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বিসিবিকে প্রদেয় আইসিসির সকল তহবিল যেন শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা বা স্থগিত করা হয়। আমিনুলের পুনর্বহাল বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারির অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করতে ব্যর্থ হলে যেন বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিতকরণ, তহবিল জব্দ এবং আইসিসি ইভেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিশাল সেই চিঠিতে বর্তমান বিসিবি নির্বাচনের অনেক কাউন্সিলরের কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ই নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তাদের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টতার মূল তথ্যগুলো গোপন করা হয়েছে। যেমন বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহাকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার নাতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
একইভাবে বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মিজানুর রহমান সম্পর্কে বিভিন্ন মামলার অভিযোগের কথা বড় করে লেখা হলেও তিনি যে বিপিএল দল ফরচুন বরিশালের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সফল ক্লাব সংগঠক, সেই তথ্যগুলো চিঠিতে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ আনা হয়েছে ক্রিকেটার তামিম ইকবালের পরিবারের বিরুদ্ধে। চিঠিতে মোটা দাগে আলাদা বক্স করে লেখা হয়েছে, অবৈধ অ্যাড-হক কমিটির চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল খান নিজে আয়োজিত ও তত্ত্বাবধান করা নির্বাচনে তাঁর ফুপা সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীরকে পরিচালক প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, যা স্বার্থের চরম সংঘাত।
অথচ সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর চট্টগ্রামের একজন কিংবদন্তি ক্রীড়া সংগঠক এবং তামিমের আন্তর্জাতিক অভিষেকের বহু আগে থেকেই বিসিবির পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নব্বইয়ের দশক থেকে তাঁর অবদান এবং বিপিএল শুরুর পেছনে বড় ভূমিকা থাকার তথ্যগুলো চিঠিতে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে।
চিঠির শেষ দিকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রার্থনার ৯ নম্বর পয়েন্টে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত ও টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির বাম পাশে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল এএসএম সাজ্জাদ হায়দারের নাম এবং ডানপাশে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
