লেখকঃ মনযূরুল হক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টুকরো টুকরো অভিযোগের গণ্ডি পেরিয়ে এখন মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের বিভিন্ন কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হচ্ছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্পর্শকাতর ঘটনায় আলেমসমাজ, শিক্ষকবৃন্দ ও তদারকি বোর্ডগুলোর ভূমিকা নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও বিশ্লেষক মনযূরুল হক।
নিবন্ধে তিনি নিজের শৈশবের নির্মম অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে তুলে ধরেন কীভাবে শিক্ষার নামে শিশুদের ওপর বেধড়ক প্রহার, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এবং ‘গোশত আপনার, হাড্ডি আমার’ নামক সামাজিক মানসিকতা যুগ যুগ ধরে শিশুদের জীবনের স্বাভাবিক বিকাশকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তবে কেবল শারীরিক প্রহারেই সীমাবদ্ধ নেই; সাম্প্রতিক সময়ে ছেলে ও মেয়েশিশুদের বলৎকার, ধর্ষণ, হত্যা, ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার এবং অপরাধ ঢেকে রাখতে আত্মহত্যা বলে চালানোর মতো জঘন্য অপরাধও গণমাধ্যমে উঠে আসছে।
অপরাধবিজ্ঞান ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ: লেখক অপরাধবিজ্ঞানের ‘রুটিন অ্যাকটিভিটি থিওরি’ এবং মনস্তত্ত্বের ‘মোরাল লাইসেন্সিং’ ধারণার আলোকেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। একটি বদ্ধ, তদারকহীন ও অনিয়ন্ত্রিত একচ্ছত্র ক্ষমতার পরিবেশ কীভাবে একজন স্বাভাবিক বা অপরাধপ্রবণ মানুষকে চরম বিকৃতির দিকে ঠেলে দেয় তা উঠে এসেছে আলোচনায়। তাছাড়া religious authority বা ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়ের আড়ালে যখন অপরাধ ঘটে এবং প্রতিষ্ঠান যদি উল্টো ভুক্তভোগী শিশুর কথা না শুনে অপরাধীকে আড়াল করতে চায়, তবে তাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইনস্টিটিউশনাল বিট্রেয়াল’ বা প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসভঙ্গ বলা হয়।
আন্তর্জাতিক নজির ও সমাধানের রূপরেখা: নিবন্ধে ইন্দোনেশিয়া, সেনেগাল ও পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে দেখানো হয় কীভাবে তারা নিজ নিজ দেশের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংস্কার এনেছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিটি পেসানত্রেন বা বোর্ডিং স্কুলে ‘চাইল্ড প্রোটেকশন টাস্কফোর্স’, গোপন কমপ্লেন বক্স এবং শিক্ষকদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা (সাইকোলজিক্যাল স্ক্রিনিং) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
