লেখক– শরিফুল হাসান
ক্রিকেট ও ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের দুই ধরনের অবস্থান ও দ্বিমুখী নীতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ভারতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণকে সমর্থন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর এই বৈপরীত্য সামনে এসেছে।
কোনো যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই বাংলাদেশের বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বর্জনের ঘটনাকে ক্রীড়া ইতিহাসের এক বিরল কলঙ্ক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই বর্জনের বিষয়ে আসিফ নজরুল প্রথমে নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাতে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা বললেও, পরে ভোল বদলে এটিকে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন।
ক্রিকেট বিশ্বকাপ বর্জনের মাধ্যমে দেশের একটি প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক মঞ্চ থেকে বঞ্চিত করা হলেও, ফুটবল বিশ্বকাপে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তীব্র সামরিক সংঘাত ও ভিসা জটিলতার শিকার হওয়া সত্ত্বেও ইরান যখন টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে, তখন আসিফ নজরুল মুসলিম-সংহতির বার্তা দিয়ে ইরানকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
সমালোচকদের মতে, আসিফ নজরুলের এই অবস্থান স্পষ্টতই পারস্পরিক বিরোধী এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। নিজের অনুগামীদের মাঝে কেবল “ভারতবিরোধী” হাওয়া বজায় রেখে ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, আসিফ নজরুল যদি এতটাই নীতিবান ও মুসলিম উম্মাহর দরদী হয়ে থাকেন, তবে মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের জন্য কেন তিনি বিশ্বকাপ বর্জনের ডাক দিলেন না। “মার্কিন আগ্রাসন রুখে দাও” স্লোগান দিলে নিজের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা হারানোর ভয় থেকেই তিনি এই দ্বিমুখী ও সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
