নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : একটি বিতর্কিত ফোনালাপের অডিও রেকর্ড প্রকাশ ও তর্কবিতর্ককে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় হামলায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ সংগঠনটির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট, ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যেই দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন— জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তাঁর বড় ভাই রাজিব হোসেন, এবং স্থানীয় নেতাকর্মী আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, আব্দুস সালাম, তহিদুল হোসেন ও মাহামুদুল হাসানসহ আরও কয়েকজন।
আহত ছাত্রদল নেতা বাপ্পী অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসানের একটি কল রেকর্ড তাঁদের হাতে আসে, যেখানে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ছাত্রদলকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুলের কাছে গেলে তাঁকে সেখানে আটকে রাখা হয়।
জাহিদকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে বাপ্পী অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. নাজমুল হাসান ও তাঁর বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা।
ঘটনার পরপরই গভীর রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
