নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের প্রাইমারি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৩ জুন এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যার আগে ১৩ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত চলে আগাম ভোট এবং ডাকযোগেও অনেক ভোটার অ্যাবসেন্টি ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এই নির্বাচনে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রধান দলগুলোর প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এসব পদের জন্য নির্ধারিত ২৩ জুনের দলীয় প্রাথমিক নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয় এবং প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ নির্বাচনে লড়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
আসন্ন ৩ নভেম্বরের মূল সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং রিপাবলিকান দলের ব্রুস ব্লেকম্যান গভর্নর পদে একে অপরের মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট দল থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে লেটেশিয়া জেমস এবং ইউএস হাউজের কংগ্রেসম্যান পদে হাকিম জাফ্রিজ, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও গ্রেগরি মিক্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন।
শীর্ষ পদগুলোতে ভোট না হলেও নিউইয়র্কের ১৬টি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট, ১২টি স্টেট সিনেট আসন, ৪১টি অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট এবং জুডিশিয়াল ও অলটারনেট জুডিশিয়াল ডেলিগেট পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটযুদ্ধ হয়েছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্কুল ও বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সমর্থকরা তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেন।
এবারের নির্বাচনে নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও কমিউনিটি-সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নজর কেড়েছেন। তবে তীব্র লড়াইয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে অনেক বাংলাদেশী প্রার্থী শেষ মুহূর্তে অল্পের জন্য বিজয়ী হতে পারেননি।
বিভিন্ন আসনের ফলাফলে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ৬ নং কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে গ্রেস মেং এবং ১০ নং ডিস্ট্রিক্টে ড্যান গোল্ডম্যানকে হারিয়ে ব্র্যাড ল্যান্ডার জয়ী হয়েছেন। ১৪ নং কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে বরাবরের মতোই বিজয়ী হয়েছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং কম্পট্রোলার পদে জয়ী হয়েছেন থমাস পি. ডিনাপোলি।
স্টেট সিনেট নির্বাচনে ১২ নং ডিস্ট্রিক্টে আবের কাওয়াস জয়লাভ করেছেন, যেখানে ভালো করেও জয় পাননি স্টিভেন বি. রাগা। ১৩ নং সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস জয়ী হয়েছেন এবং জেসিকা রামোস পরাজিত হয়েছেন।
অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনী লড়াইয়ে ৩০তম ডিস্ট্রিক্টে প্যাট্রিক মার্টিনেজ জয়ী হয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশী প্রার্থী শামসুল হক দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ৩২তম ডিস্ট্রিক্টে নাথানিয়েল হিজেকিয়া জয়ী হন এবং মোহাম্মদ জে. মোল্লা তৃতীয় স্থান পান।
৩৬তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে বর্তমান অ্যাসেম্বলিওমেন ডায়ানা সি. মোরেনো বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে মেরি জোবাইদা দ্বিতীয় হন। ৩৭তম ডিস্ট্রিক্টে সামান্থা কাটান জয়ী হন এবং পিয়া রহমান তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
৩৮তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে বর্তমান অ্যাসেম্বলিওমেন জেনিফার রাজকুমার পরাজিত হয়েছেন এবং ডেভিড অরকিন বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া ৩৯ ডিস্ট্রিক্টে ক্যাটালিনা ক্রুজ, ৫৪ ডিস্ট্রিক্টে ক্রিশ্চিয়ান সেলেস্তে টেট, ৬৬ ডিস্ট্রিক্টে জেনিন কাইলি এবং ৮৭ ডিস্ট্রিক্টে কারিনেস রেইয়েস জয়ী হয়েছেন, যেখানে জাকির চৌধুরী দ্বিতীয় স্থান পান।
সাধারণত নিউইয়র্ক একটি ডেমোক্র্যাট-প্রধান অঙ্গরাজ্য হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ পদে সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মূল সাধারণ নির্বাচনে গভর্নর পদে ক্যাথি হোকুল (ডেমোক্র্যাটিক), ব্রুস ব্লেকম্যান (রিপাবলিকান), ল্যারি শার্প (লিবার্টারিয়ান) এবং এমি টেলরসহ (ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি) অন্য দলগুলোর প্রার্থীরাও অংশ নেবেন।
