নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর বাঘায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ও কড়া আন্দোলনের সামনে নতি স্বীকার করে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে অবশেষে পুলিশি পাহারায় বিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।
রবিবার (৯ আগস্ট, ২০২৬) উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাঘা থানা পুলিশ।
বিদ্যালয় ও একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ওই ছাত্রী শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে পুরো বিষয়টি সহপাঠীদের খুলে বলে। সহপাঠীরা ঘটনাটি স্কুলের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষককে জানালেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষকরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তীব্র দাবির মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর হাতে লেখা পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। সেখানে তিনি লেখেন— ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করলাম।’
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরও উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাঁর পিছু নিলে পুলিশ সদস্যেরা কর্ডন করে তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। পরে পুলিশি পাহারায় বিশেষ নিরাপত্তায় তাঁকে আমোদপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
