নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা নওশীন ও নোভার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান N Cafe 365। আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতি, মানসম্মত খাবার এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশের সমন্বয়ে সাজানো এই নতুন উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

লং আইল্যান্ডের ওয়ানটাঘ এলাকায় অবস্থিত ক্যাফেটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অতিথিরা এক ছাদের নিচে কফি, হালকা নাস্তা, ফাস্ট ফুড এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে আড্ডার একটি সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। উদ্যোক্তারা জানান, শুধুমাত্র একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি মিলনমেলা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা দলবেঁধে সেখানে উপস্থিত হয়ে নওশীন ও নোভাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ফলে নিয়মিত তারার মেলা বসছে সেখানে। অতিথিরা নতুন এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন এবং প্রবাসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নওশীন ও নোভা বলেন, “দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে N-Cafe 365-এর যাত্রা শুরু হলো। আমরা চাই এমন একটি স্থান তৈরি করতে, যেখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন এবং মানসম্মত সেবা পাবেন।”
উল্লেখ্য, N Cafe 365 লং আইল্যান্ডের ওয়ানটাঘ এলাকায় অবস্থিত এবং প্রতিদিন গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ক্যাফেটিতে কফি, বিভিন্ন ধরনের পানীয়, স্ন্যাকস ও খাবারের পাশাপাশি আরামদায়ক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল। অভিনয়ের পাশাপাশি ফুড ভ্লগিং করেও তিনি সফল। এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন- আমার খাদ্য অভিযানের শুরু ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জায়গায় রেস্টুরেন্ট খোলার অনেক প্রলোভন ছিলো, কিন্তু খুব কৌশলে সব প্রলোভনগুলো আমি এভোয়েড করে গেছি, আসলে রেস্টুরেন্টের ঝামেলায় আমি কখনো জড়াতে চাইনি। খাচ্ছি দাচ্ছি ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেইতো ভালো। তখনো আসলে বুঝতে পারিনি যে আমার জন্য সবচেয়ে বড় ফাঁদটা আমার ঘরের ভিতরেই তৈরি হচ্ছে।
গতবছর হুট করেই আমার বউ নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডে আমাদের বাসার পাশেই একটা রেস্টুরেন্ট স্পেস পেয়ে গো ধরলো, রেস্টুরেন্ট করবেই। শুরুতে আইডিয়াটা ছিলো কেবল ক্যাফের, পরে বাড়তে বাড়তে সেটা এখন ফুল রেস্টুরেন্টে এন্ড বার। আমিও ভাবলাম পৃথিবীর রাজধানীতেই যদি হয় আমাদের প্রথম রেস্টুরেন্ট, এরচেয়ে ভালো শুরু তো আর কিছু হতে পারেনা। যদিও বার, তবে আমরা মাংসের ব্যাপারে সব হালাল মাংস ব্যাবহার করছি। একটা একটা করে রেসিপি ডেভেলপ করেছি। ফ্রেন্চ ফ্রাইজের আলু কাটা থেকে শুরু করে ল্যাম্ব শ্যান্ক রান্না সবই আমাদের ইনহাউজ।
যাইহোক, ১ বছরের চড়াই উতরাই পার করে আজকে আমরা রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে দিলাম কাস্টমারদের জন্য। এখন আসল পরিক্ষার পালা।
বাংলাদেশী কেউ যদি আমাদের রেস্টুরেন্ট ভিসিট করতে চান তবে মোস্ট ওয়েলকাম। ওহ আমাদের রেস্টুরেন্টের নাম N Cafe 365 Restaurant & Bar গুগোল ম্যাপে পেয়ে যাবেন।
আরেকটা কথা, Adnan Faruque পৃথিবীর কোথাও একটা রেস্টুরেন্ট বানাচ্ছে আর সেখানে ঢাকার কাচ্চি থাকবেনা তাই হয় নাকি, তাই কাচ্চিও থাকছে পুরো দমে। চেষ্টা করে দেখি, এবার আমেরিকানদের আমাদের কাচ্চি খাওয়া শেখানো যায় কিনা 😀😀😀
বিঃদ্রঃ N Cafe মানে কিন্তু নওশীন ক্যাফে না, নিউইয়র্ক ক্যাফে।
নওশীন-নোভার এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে লং আইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন কমিউনিটির সদস্যরা।