আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মুখে এবং ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ চিঠির আলোচনার মধ্যেই এবার দেশে ফেরার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক নতুন ভিডিও বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই বছরের ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পারলে তাঁকে যেন ঠেকানো হয়।
শেয়ার হওয়া ভিডিও বার্তায় আবেগাশ্রিত ও আক্রমণাত্মক কণ্ঠে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “কিসের ভয় দেখান? শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, শেখ হাসিনা কাউকে ভয় পায় না। এই বছরের ডিসেম্বরেই আমি দেশে আসবো, কি করবেন আপনারা? কোথায় রাখবেন, জেলে? যান, জেল বানান! বোমা মারবেন? মারেন, এর আগেও তো হামলা করেছিলেন কিন্তু পারেননি। মেরে ফেলবেন? ফেলেন, মানুষকে তো মরতে একদিন হবেই!”*
ভিডিওতে বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান বাধা দিয়েছিলেন, সেই বাধা উপেক্ষা করে আমি দেশে ফিরেছিলাম। ২০০৭ সালে মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাধা দিয়েছিল, কিন্তু আমার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আটকাতে পারেনি। এবারেও কেউ পারবে না।”
ভিডিওর শেষভাগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বর্তমান প্রশাসনকে উদ্দেশ্যে করে তিনি আরও বলেন, “এবারের দা-কাঁচি, জেল-জুলুম যা খুশি রেডি করেন, তাতে আমার কোনো সমস্যা নাই। স্পষ্ট ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলাম আমি এই ডিসেম্বরেই ফিরবো, পারলে ঠেকায়েন”
এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, সাজা বা গ্রেফতারির ঝুঁকি জেনেও তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। পরবর্তীতে বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভেসে আসা শেখ হাসিনার এই নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বাদানুবাদের ঝড় উঠেছে।
