আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও চলমান সংঘাতের রেশ ধরে জর্ডানে এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই থেমে গেল এই তরুণী সেনার জীবনের পথচলা। এই একই হামলায় ইসাবেলাসহ মোট দুজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনাকে নতুন করে এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জর্ডানে নিহত হওয়া ওই দুই সেনাসদস্যের আনুষ্ঠানিক পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। পেন্টাগনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত ইসাবেলা গনজালেস যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্যারোলটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনীর ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত ছিলেন। বিশ্বব্যাপী উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী মার্কিন বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি তাঁকে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, গত ১৭ই জুলাই জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলার সময় ডিউটিরত অবস্থায় ইসাবেলা গনজালেস নিহত হন। ওই একই হামলায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সী আরেক মার্কিন কর্মকর্তা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান, যিনি হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসার জন্য জর্ডানের স্থানীয় বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এই বিধ্বংসী হামলার দায় স্বীকার করেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের চালানো ধারাবাহিক সুপরিকল্পিত আক্রমণের অংশ ছিল এই হামলা। প্রায় একই সময়ে উত্তর ইরাকে আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই ছায়াযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হলেন। প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেসের এই অকাল মৃত্যু সেই দীর্ঘ রক্তাক্ত তালিকায় যুক্ত করল আরেকটি নির্মম নাম—যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন কিংবা সুন্দর ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে জীবন শুরু করে, ঠিক সেই বয়সেই ইউনিফর্ম পরা নোঙরহীন এক তরুণীকে ফিরতে হলো কফিনে বন্দি হয়ে। বীর এই মার্কিন কন্যার চিরবিদায়ের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর নিজ শহর টেক্সাসে।
