আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পছন্দের শাড়ি কিনে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া পারিবারিক তুচ্ছ কলহের জের ধরে স্বামীকে প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে ও পরবর্তীতে চরম নৃশংসতায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলায়। ঘটনার পর বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নির্মম হত্যার আসল তথ্য বেরিয়ে এলে অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত নারীর নাম সুনীতাদেবী হরেরাম সিংহ (৩০)। তিনি মূলত বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার পুলিশ তাকে ভারতে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করে।
মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই থানে জেলার বাদলাপুর পূর্ব এলাকার বাসায় স্বামী হরেরাম কিশুনজি সিংহ (৩৫) ও সুনীতাদেবীর মধ্যে শাড়ি কিনে দেওয়া নিয়ে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই সাধারণ বাকবিতণ্ডা চরম হাতা হাতাহাতি ও উত্তপ্ত পারিবারিক সহিংসতায় রূপ নেয়। বিবাদের একপর্যায়ে সুনীতাদেবী ক্ষিপ্ত হয়ে রান্নাঘরে থাকা প্রেসার কুকারের শক্ত ঢাকনা দিয়ে স্বামী হরেরামের মাথায় ও শরীরে উপরিউপুরি আঘাত করেন। আঘাতের কারণে স্বামী ঢলে পড়লে পরবর্তীতে নির্মমভাবে তাঁর শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সুনীতাদেবী পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে দাবি করেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যু একটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা। স্ত্রীর এমন প্রতারণামূলক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে শুরুতে স্থানীয় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা (এডিআর) নথিভুক্ত করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
তবে সরকারি হাসপাতালের চূড়ান্ত চিকিৎসা প্রতিবেদনে মৃত্যুর আসল কারণ হিসেবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শ্বাসরোধজনিত অস্বাভাবিক মৃত্যুর স্পষ্ট তথ্য উঠে আসে। ময়নাতদন্তের ওই রিপোর্টে সহিংসতার প্রমাণ পাওয়ার পর ঘটনার মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। এরপর নিহতের স্বজন ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে গোপনে কথা বলে স্ত্রীর ওপর সন্দেহের তীর জোরালো করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
বাদলাপুর পূর্ব থানার জ্যেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নীতিন পাতিল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “ডাক্তারি ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং বলপ্রয়োগে শ্বাসরোধের ফলেই ওই ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত, পরিবার ও বাড়ির মালিকের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ঘটনার পর পুলিশ মামলাটি স্থানীয় আদালতে উত্থাপন করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্ত সুনীতাদেবীকে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উসকানি ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
