নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি শিবিরের অনুসারীদের জন্য ‘মাস্টার’ বই কেনা নিষেধ -এমন ফেসবুক পোস্ট করে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন খোদ বইটির লেখক মো: জাহাঙ্গীর আলম। ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো লেখেন, MASTER এর সুপার এডিশন বের করব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু কাভারে লিখে দেব বেয়াদব ও অকৃতজ্ঞ শিক্ষার্থীদের কেনা নিষধ ও ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীদের/অনুসারীদের বইটি কেনা নিষেধ।
শুধু এই পোস্ট নয়, নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে নিয়মিত শিবির বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার দিতে দেখা গেছে।
শিবিরকে নিয়ে ধারাবাহিক এমন পোস্ট এবং তার পেছনের কারণ জানালেন তিনি নিজেই
এই প্রেক্ষিতে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এদের একসময় আমি প্রশংসা করতাম। একটা সময় আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি আমার সাথের কিছু বন্ধুবান্ধব শিবির করত। তাদের মধ্যে যথেষ্ট ভদ্রতা দেখেছি। কিন্তু এই জেনারেশনের এরা এতটাই অশ্লীলভাষী। আমি এদের বললাম ভাই আমাকে ভালো না লাগলে আমার বইও কেনার দরকার নাই। আমার পেজও আনফলো করে দেন। এরাতো শোনে না।’
শিবিরের প্রতি ক্ষোভের সূচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর শুরু বছরখানেক আগে। আমি অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ, মবতন্ত্র শুরু হল। সে যদি আপনার চরম শত্রুও হয় আপনি যদি তার সম্পদের ক্ষতি করেন ওটা দেশের সম্পদের ক্ষতি। দেশের আইন আছে কানুন আছে। সেটা দিয়ে আমি আপনাকে ডিফেন্ড করব। এই বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখির পর দেখলাম এদের আসল রূপ বের হয়ে আসল। এরা অশ্লীল গালিগালাজে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ।’
তবে লেখক জাহাঙ্গীরের ওপর শিবিরের অন্যতম ক্ষোভের কারণ শেখ মুজিব নিয়ে লেখালেখি করা বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার ছিল সেগুলো আমি একদম অকাট্য রেফারেন্সগুলো দিয়ে এগুলো খণ্ডন করি। এটা হলো মূল ক্ষোভের জায়গা।’
তিনি বলেন, ‘আপনার যদি ৫টা ভালো গুণ থাকে আমি আপনার ভালোটাকে ভালোই বলব। খারাপ দিকটাকে খারাপ বলব। কিন্তু ভালো গুণগুলোর উপরে কাদা ছিটালে কি হবে মানুষের মনে মনে আপনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াবে। আমি এর বিপক্ষে। আপনি আমার যত বড়ো শত্রুই হন কে কেন আমি চেষ্টা করব আপনার ভালোটাকে ভালো বলার খারাপটাকে খারাপ বলার। আমি জীবনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জামায়াত কারো রাজনীতি করিনি। মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিব নিয়ে বেশকিছু প্রোপাগান্ডা ছিল। আমি এগুলোর বিরুদ্ধে পোস্ট দিলাম। যারা নেগেটিভিটি ছড়াচ্ছিল তাদের এ জায়গাগুলো বন্ধ হয়ে গেল। আমি যদি আপনার বিপক্ষে রাজনৈতিক মতামত দেই আপনি সেটা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেন। অশ্লীল গালিগালাজ করার কি দরকার?’
তিনি আরও বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ শেখ মুজিবকে সরাসরি জারজ বলল। একটা দেশের আর্কিটেক্টকে আপনি যদি জারজ বলতে পারেন তার মানে আপনার নীতি নৈতিকতাটা কোথায়। আমার কথা যদি ভুল হয় রেফারেন্স দিয়ে খণ্ডন করেন। আপনি যে দেশে থাকেন, খান সে দেশের প্রতি যদি আপনার ভালোবাসাই না থাকে আপনিতো পুরোটাই দেশবিরোধী। এগুলো ভবিষ্যতে বেড়ে উঠলে -না থাকবে বাংলাদেশের স্বকীয়তা না থাকবে স্বাধীনতার কোন স্প্রিট।’
এই লেখকের প্রতি শিবিরের ক্ষোভের আরেকটা কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রকাশনা জগতে যারা লেখালেখি করে এখানের দুই তিনজন আছে আওয়ামী লীগ সমর্থক। বাদ বাকি সবগুলো একটা সিন্ডিকেট। বেশিরভাগই এরা হলো শিবিরের ছেলে। এদের একটা ক্ষোভ ছিল। আমার বই পাঁচ বছর ধরে এর কোন এডিশন বের করি না। আর ওরা এত এডিশন বের করে, এত চেষ্টা করে তাও মার্কেটে চলে না। বছর শেষে যে টাকা তারা উপার্জন করে তা আমি ইনকাম টেক্সই দেই। এটাও একটা কারণ।’
পরে এই লেখক বলেন, ‘আমার কারো উপরে ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। আমি শিবিরের পোলাপানকে কেন আমার বই না কিনতে বললাম। এরা বই না কিনলেতো লস আমার হওয়ার কথা। কোন ব্যবসায়ীকে আপনি দেখাতে পারবেন না যে নিজের ব্যাবসার প্রতি এত বড়ো ঝুঁকি নিবে। আমার মনে হয়েছে অর্থ থেকে আমার কাছে আমার মানসিক শান্তিটাই বড়ো। কি পরিমাণ ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছি সেটা আমি জানি। হুট করে কেউ আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলো আর আপনি ফোন ধরেন। পরে সে আপনাকে গালিগালাজ শুরু করে দিল। তখন কেমনটা লাগে?’
Comments
সংশ্লিষ্ট খবর
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
