নিজস্ব প্রতিবেদন : ভোলার বোরহানউদ্দিনে হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে জঘন্যতম এই অপরাধের পর অবোধ ওই শিশুর হাতে মাত্র ২০ টাকা ধরিয়ে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এবং ঘটনাটি ১০ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে মারধরের অভিযোগে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার পৃথক স্থানে চিরুনি অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলার হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন (৫৫) এবং একই উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চু (৫০)।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। গত ১৬ জুলাই দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন কৌশলে শিশুটিকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর নৃশংস এই ঘটনা পরিবারের কাউকেই না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশুর হাতে মাত্র ২০ টাকা গুঁজে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
শিশুটি বাড়ি ফেরার পর শারীরিক যন্ত্রণা ও তার অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসা করার একপর্যায়ে শিশুটি বিস্তারিত তুলে ধরে। স্বজনরা বিচার চেয়ে প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে জানান। তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার রাতে স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর পরিবার এই অনৈতিক প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মেম্বার ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং তারা ভুক্তভোগীর স্বজনদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির দাদি বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এবং সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মামলার সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। বুধবার বিকেলে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।”
