লেখক: সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা
বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে এখন একটাই স্লোগান—“ফিরে আসছে আওয়ামী লীগ”। দেশজুড়ে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই।
লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম— গতকালের চিত্র একটাই:
হাজার হাজার মানুষের মিছিল। আওয়ামী লীগের ডাকে রাজপথে নেমে এসেছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। বিএনপি সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশ দিয়ে মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল—কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। কিন্তু জনতার ঢল এতটাই তীব্র ছিল যে, একপর্যায়ে পুলিশই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। মিছিল পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে।
চারিদিকে একটাই আওয়াজ: শেখ হাসিনাকে চাই।
দেশ আজ গভীর সংকটে। দ্রব্যমূল্যের আগুন, লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা, জ্বালানির দামে নাভিশ্বাস—সব মিলিয়ে মানুষ দিশেহারা। এই দুঃসময়ে মানুষের মুখে মুখে একটাই নাম—মানবিক, বিনয়ী, দূরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনা। জনগণ বিশ্বাস করে, একমাত্র তিনিই পারেন বাংলাদেশকে এই খাদ থেকে টেনে তুলতে। তাই সর্বস্তরের মানুষের দাবি উঠেছে: *শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হোক।
আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
বিএনপি সরকার কালো আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম অবৈধভাবে নিষিদ্ধ করেছে। অথচ আওয়ামী লীগ এই মাটির দল। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল। এই দলকে নিষিদ্ধ করে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
আজ দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী—সবাই একসুরে বলছে:
. অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত কালো আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
. দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
. দমন-পীড়ন বন্ধ করে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ইতিহাস সাক্ষী:১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন। সেদিনও ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিল। আজ ২০২৬ সালে এসে দেশ আবারও সেই মুহূর্তের অপেক্ষায়। কারণ জনগণ জানে, সংকটে একমাত্র ভরসা শেখ হাসিনা।
লক্ষ্মীপুরের রাজপথ, ময়মনসিংহের টাউন হল মোড়, নোয়াখালীর মাইজদী, চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দান—সবখানে গতকাল যে চিত্র দেখা গেছে, তা স্পষ্ট বার্তা দেয়: আওয়ামী লীগকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।
জনগণের দাবি মানতে হবে। রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে, পুলিশ দিয়ে নয়। কালো আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। না হলে এই গণজোয়ার সরকারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
