আনিস আলমগীর
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে- যেসব সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের আমি আগেই বিএনপির আড়ালে থাকা জামাত প্রেমী শক্তি হিসেবে চিনতাম, রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের অবস্থান ও বক্তব্য আরও উন্মোচিত হচ্ছে।
এদের একটা কমন ডায়লগ আছে- ‘আমরা আর একটা ফ্যাসিবাদী শক্তি চাই না।’ ফলে আমার নিজের মূল্যায়ন ও অনুমান শক্তির ওপর আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে।
বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, হেলমেট পরে শিবির যেভাবে ছাত্রলীগের ভূমিকায় নেমেছিল- সেই ঘটনাগুলোও এখন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে এবং অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি যদি আরও কিছুদিন স্থায়ী হয়, তাহলে এই মুখোশগুলো পুরোপুরি খুলে যাবে, এবং প্রকৃত অবস্থানগুলো জাতির সামনেও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
আমার দেখা মুখোশ পরা লোকগুলোর অন্তত একশো নাম আমি বলতে পারি- কিন্তু বলবো না। তার আগে বিএনপিই নিজেকে চিনুক- তার ভেতরে কে সত্যিকারের বিএনপি, আর কে গুপ্ত জামাত।
কারণ, বিএনপির জন্য তার প্রকাশ্য প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের চেয়েও গুপ্ত জামাত আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার যে বদ চিন্তা বিএনপি’র কারো কারো মাথায় এসেছে, সেটা আরো আত্মঘাতী হবে। কারণ, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, জামাত তাদের আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী- আর আদর্শিক লড়াইটাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন ও নির্ধারণকারী।
