বিয়ের অনুষ্ঠান বা খতনায় সাউন্ড বক্স কিংবা মাইক বাজালে সামাজিকভাবে বর্জনসহ গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।
গত বৃহস্পতিবার গ্রামে মাইকিং করে এই অদ্ভুত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো বাড়িতে গান-বাজনা বা উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হলে তাদের মসজিদ, মাদ্রাসা ও গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি ওই পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে গোরস্থানে দাফন করতেও বাধা দেওয়া হবে। মসজিদের ইমাম মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, উচ্চশব্দে অসুস্থ মানুষের সমস্যা হওয়ায় এবং ইসলামে গান-বাজনা নিষিদ্ধ থাকায় গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গ্রামের এতিম শিশু আলিফের খতনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। তার নানি রুপা খাতুন জানান, নাতির শখে একদিন বক্স বাজানো হয়েছিল, যা নামাজের সময় বন্ধ ছিল।
কিন্তু এর জেরে মসজিদ কমিটি প্রভাব খাটিয়ে পুরো গ্রামে এমন ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ বলছেন, উচ্চশব্দ নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের কাজ; কিন্তু কারো ধর্মীয় বা সামাজিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এখতিয়ার কোনো কমিটির নেই।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এবং জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন বলছে, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগতভাবে এমন আইন জারির কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে গ্রামটিতে থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সামাজিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
