আরিফ জেবতিক
আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সুবিধাভোগী সাংবাদিকদেরকে আমি ৩ ভাগেভাগ করি। এ গ্রেড, বি গ্রেড এবং সি গ্রেড।
সি গ্রেড মানে হলো কার্ড গ্রেড। পিএম অফিসের সাথে এই গ্রেডের কোন ডাইরেক্ট যোগাযোগ নেই। এদের নামে বছরে দুই ঈদে ঈদ কার্ড আসে, তাঁরা সেই ঈদকার্ড ফেসবুকে পোস্ট করে শ্বশুর বাড়ির কাছে হালকা ফ্লেক্স নেয়। এর বাইরে এদের কোন প্রভাব নেই।
সি গ্রেডের আগের গ্রেডটি হচ্ছে বি গ্রেড বা ব্রাদার গ্রেড। এই শ্রেনীর সাংবাদিকদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কোন যোগাযোগ নেই কিন্তু প্রেস টিমের লোকজন তাদের ব্রাদার লাগে। তারা সেই ব্রাদারদের সাথে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সেলফি তুলে, ভাগ্য ভালো হলে কখনো চা কফি খায় এবংপিএম এর নববর্ষ কি পিঠা উৎসবে ব্রাদার সূত্রে দাওয়াত পায়। পিঠা খাওয়ার বাইরে তারা তেমন সুযোগ সুবিধা কিছু পায় না। বড়জোর সিটি কর্পোরেশন কি পাসপোর্ট অফিসে ২/৩ হাজার টাকার ঘুষ বাঁচাতে তাঁরা তাঁদের ব্রাদারদের নাম বিক্রি করে কি ফোনে ধরাইয়া দেয়।
এখন বাকি থাকল এ গ্রেড। এ মানে আপা গ্রেড। এরা শেখ হাসিনাকে আপা ডাকেন। এরা সব অনুষ্ঠানে আপার পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেন এবংসর্বকাজে আপার দোহাই দেন। এরা হলো রাজকপালি গ্রেড।সবাই পূর্বাচলে কি উত্তরায় সাংবাদিক কোটায় প্লট পান, সচিবালয়ে গিয়ে দরকার হলে প্রতিমন্ত্রী উপমন্ত্রীকে ঝাড়ি দেন। এদের লাইফ পার্টনাররা সাধারনত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভালো চাকুরি করেন এবং কারো কারো বউ এমনকি এমপি নমিনেশনও পান। নামে এ গ্রেড হলেও ইনারা আসলে সুপার গ্রেড।
তো, আজকে এরকম এক সুপারগ্রেড সাংবাদিক দেখলাম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা চকলেট দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে শিশুদেরকে কাছে ডাকতেন এবং শিশুদের সাথের কথাবার্তা সবার অগোচরে মাহফুজ আনামকে দিয়ে রেকর্ড করে নিতেন।
আমরা যারা এই ৩ গ্রেডের পরের ধাপের, ডি গ্রেড মানে সকল সুবিধা থেকে ‘দূরত্ব গ্রেড’, তাঁদের পক্ষে তো এই ইনফো ভেরিফাই করার কোন সুযোগ নেই।
এ গ্রেডের সিনিয়ররা যদি বলেন শেখ হাসিনা এরকমই, আমাদের সেটা মেনে নেওয়া ছাড়া কিছু করারও নেই।
