লেখক: সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে “জুলাই আন্দোলন” একটি মোড় ঘোরানো অধ্যায় হয়ে থাকবে। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, সেই আন্দোলনের পর্দার আড়ালের চেহারা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন প্রশ্ন উঠছে এটা কি সত্যিকারের গণআন্দোলন ছিল, নাকি পরিকল্পিত নাটক ও দেশবাসীর সাথে প্রতারণা।( ব্রেইন টিউমারে মৃত্যুবরণ হয় কিন্তু দেখানো হয় জুলাই শহীদ এই হল জুলাই শহীদদের প্রকৃত চরিত্র এবং ধান্দাবাজি) হার্ডে স্টোক করে দেখানো হয় জুলাই শহীদ, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও উপরে দেখানো জুলাই শহীদ।
বিভিন্ন যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনায় যদি মারা যায় তারপরেও দেখানো হয় জুলাই শহীদের পঙ্গু। করে পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক এবং জাতীয় আন্তর্জাতিক মিথ্যাবাদী প্রতারণার জুলাই আন্দোলন।
. “শহীদ” সংখ্যার রহস্য
আন্দোলনের সময় দাবি করা হয়েছিল প্রায় ৮০০জন নিহত হয়েছেন। অথচ কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা গেল, সেই তালিকার ১২৬ জন জীবিত ফিরে এসেছেন। শুধু তাই নয়, সামাজিক মাধ্যমে ভেসে আসছে—অনেকে স্বাভাবিক মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, এমনকি সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলায় মারা গেছেন, তাদের নামও “জুলাই শহীদ” তালিকায় ঢুকে গেছে।
যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে প্রশ্ন জাগে—শহীদত্বের মতো পবিত্র উপাধিকে কি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি? এতে প্রকৃত শহীদ পরিবারগুলোর ত্যাগ কি খাটো হয়ে যায় না?
. গায়েবি মামলা ও মামলা বাণিজ্য
বিভিন্ন থানায় একেকটি হত্যা মামলায় ৪০০, ৫০০ এমনকি ১০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির প্রমাণ নেই। আইনের ভাষায় এগুলোকে “গায়েবি মামলা” বলা হয়। বিচার দিবে কার কাছে? বিচারপতি অসহায় নীরবে কাঁদে!
যদি দেশে সত্যিকারের আইনের শাসন থাকে, তবে এত বিপুল সংখ্যক আসামি কোন যৌক্তিকতায় আসে? এর পেছনে যে “মামলা বাণিজ্য” চলছে, তা সাধারণ মানুষ এখন খোলাখুলি বলতে শুরু করেছে। লক্ষ নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার, অনেকে ঘর-বাড়ি ছাড়া।
. আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
গত দুই বছরে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। দলীয় সূত্রমতে ৭৭৬ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অনেকের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভয়ে অনেকেই থানায় মামলা করতেও সাহস পাননি। প্রশ্ন হলো—এটা কি আইনের শাসন? নাকি আইনকে একতরফা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা?
. সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
গত দুই বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে ২০২ জনের বেশি হিন্দু নাগরিক কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে । মায়ের সামনে মেয়ে, পিতার সামনে সন্তান, স্বামীর সামনে স্ত্রীর ওপর নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে।
অথচ এসব ঘটনার বিচার হয়নি। প্রথম শ্রেণির গণমাধ্যমেও তা প্রচার পায়নি। কারণ গণমাধ্যমকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
. নাটকের চিত্রনাট্য ও দায় চাপানোর রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে—জুলাই আন্দোলন পরিকল্পিত ছিল। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আবেগকে ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায় করা হয়েছে। স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। কিন্তু যাদের নামে মামলা হয়েছে, এলাকার মানুষ বলছে—তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
শেখ হাসিনার নামে ৫০০-এর বেশি মামলা হয়েছে, অথচ তিনি কাউকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন প্রমাণ আজও জনসমক্ষে আসেনি এবং তিনি কাউকে হত্যা করেছেন নিজে তা কেউ দেখেনি মানুষ তাই বলে আমরা তো দেখতে পাইনি উনি কাউকে হত্যা করেছে তাহলে কেন ওনার নামে একের অধিক হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রহসনের রায় দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার: জাতি জানতে চায়
একটি জাতির ভবিষ্যৎ তখনই অন্ধকারে চলে যায়, যখন সত্য গোপন করা হয়, মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়, আর বিচারব্যবস্থা নীরব দর্শক হয়ে থাকে। শিক্ষাঙ্গন অস্থির, অর্থনীতি বিপর্যস্ত, বাকস্বাধীনতা খর্ব।
আজ দেশবাসী প্রশ্ন করছে—
. জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত মৃতের সংখ্যা কত? আজও তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
. গায়েবি মামলার ভিত্তি কী?
. হত্যা, ধর্ষণ, মন্দির ভাঙচুরের বিচার কবে হবে?
. আইনের শাসন কি সবার জন্য সমান?
সত্য চাপা থাকে না। সময় এলে প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ বেরিয়ে আসে। জাতি আজ সেই সত্যের অপেক্ষায়।
