একটি দেশ গড়তে লাগে কয়েক যুগ, ভাঙতে লাগে মাত্র একজন। বাংলাদেশের মতো দেশে এক একটি সেক্টর গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন — হোক সেটা অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিল্প কিংবা চিকিৎসা। কিন্তু ধ্বংস করতে একজন ইউনূসই যথেষ্ট।
মাত্র ১৮ মাস ক্ষমতায় থেকেই দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরে ধস নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে শিশুদের অতি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী টিকার তীব্র সংকট চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু মারা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবক ও চিকিৎসকরা। অথচ ইউনূস তখন জাপান সফরে, সেদেশের শিশুদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি আপলোড দিচ্ছে।
মাইলস্টোনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দিন যমুনায় বসে হাসতে হাসতে জুস পান করার ভিডিও সবাই দেখেছে। সেই মুহূর্তেও নিজ পেইজ থেকে মানুষের কাছে হাত পেতে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। দেশে এখন যে শিশুরা মারা যাচ্ছে, তা নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র বিকার বা সহানুভূতি আছে বলে মনে হয় না। বন্যার সময় এক হাজার কোটি টাকার ফান্ডের গল্প শুনে তো বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিল কত বলদ।
এই লোককে মাথায় তুলেছিল একদল ভণ্ড। এখনো তারা বলে — “সময় দেওয়া হয়নি, সহযোগিতা করা হয়নি।” তাহলে প্রশ্ন হলো, দেশের মানুষের প্রতি এত দরদ থাকলে এখন কী করছে সে? মানুষের জন্য ভাবতে ও কাজ করতে হলে মানুষের প্রতি দরদ থাকতে হয় — যা এই পিশাচ লোকটির একেবারেই নেই। নিজেকে ছাড়া কিছুই না বোঝা এই লোকটিই নাকি ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা হয়ে এসেছিল।
জ্বালানি সংকটে স্কুল অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশ চাইলেই যুক্তরাষ্ট্রের সদয় অনুমতি ছাড়া নিজেদের প্রয়োজনে জ্বালানি কিনতে পারছে না — এটাই নাকি “স্বাধীনতা ২.০”। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই গোলামীর চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে বিএনপি, জামায়াত। লাল ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা “স্বাধীন” লেখা ছবি প্রোফাইলে দেওয়া লোকজনের কাছে এটাই নাকি নতুন “বাংলাদেশপন্থা”।
এটা বেশি আগের কথা নয়। একটি বৈশ্বিক মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা অত্যন্ত সফলভাবে সামলেছিল এই দেশ। যাদের বয়স্ক বাবা-মা বা সন্তানেরা সেই সময় বিশ্বের অনেক দেশের আগেই টিকা পেয়েছিলেন, তাদের সন্তানেরা এখন হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়েও চিকিৎসা পাচ্ছে না। হামের প্রাদুর্ভাবকে “আতঙ্ক ছড়ানো” বলা হচ্ছে। সামনে যক্ষ্মার আশঙ্কাও রয়েছে। সাপ ও কুকুরের কামড়ের ঔষধসহ অনেক জরুরী গুরুত্বপূর্ণ ঔষধের সরকারি মজুদ শেষ। এতোদিন চলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমদানী ও উৎপাদন করা ঔষধ দিয়ে।
জেলেরা তেলের অভাবে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকের সেচ বন্ধ। দেশের সার কারখানাগুলো বন্ধ। এই দেশ থেকে একসময় মঙ্গা দূর হয়ে গিয়েছিল — সেই মঙ্গা এখন আবার দরজায় কড়া নাড়ছে। বইয়ে দুর্ভিক্ষের ইতিহাস পড়া প্রজন্ম এবার নিজেরাই সেই দুর্ভিক্ষ প্রত্যক্ষ করবে।
গত ১৯ মাসে যা যা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার বেশিরভাগই সত্য হয়েছে। এগুলো মনগড়া কথা নয় — তথ্য ও লক্ষণ দেখেই বলা সম্ভব, যদি বিচার-বিশ্লেষণের সামর্থ্য থাকে। অন্ধভাবে লীগ-বিরোধিতা করতে গিয়ে যারা দেশবিরোধী হয়ে উঠেছে, তাদের মাথায় এসব কথা ঢুকবে না — ঢুকলেও স্বীকার করবেন না।
এখন সেই “রাজনীতি বুঝি না” গোষ্ঠী সুর তুলবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — ২০২৪ সালে এত কিছু “বুঝতে” গিয়েছিলে কেন? একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশকে চোখের সামনে ধ্বংস করার দায় এরা কেউ এড়াতে পারবে না। ইতিহাসে এরা এক ঘৃণ্য অবস্থান করে নিয়েছে।
বাংলার ইতিহাসে “মীরজাফর” নামটি যেমন চিরকাল ঘৃণ্য, “ইউনূস” নামটিও তেমনি ঘৃণ্য হয়ে থাকবে। এবং আশপাশের যে “লাল”দের কথা বলছি — ব্যক্তিগতভাবে তাদের প্রত্যেককেও মানুষ একদিন ঘৃণার চোখে দেখবে। এদের নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মই যখন জানবে তারাই ঘৃণা করবে।
