আনিস আলমগীর
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সামনে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস খোলাখুলি প্রকাশ করেছেন। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন- জাতীয়তাবাদী দলের বিশ্বাসের কারণেই দীর্ঘদিন চাকরিতে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
তার এই খোলামেলা দলীয় বক্তৃতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টকশোতেও এসেছে।
শেখ হাসিনার আমলেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে- কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য শুনে মনে হতো, তারা যেন আওয়ামী লীগ নেতাদেরও ছাপিয়ে যাচ্ছেন।
সমস্যাটা এখানেই- ক্ষমতার পালাবদল হলেই পুলিশের একদল বঞ্চিত হয়, আরেকদল হয়ে ওঠে রাজনীতিবিদদের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক।
এখন অনেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, আবার কেউ আছেন কারাগারে।
জেলে ডিভিশনে থাকার সময়ে আমার জেলমেটদের বড় একটি অংশই ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। আমার অভিজ্ঞতায়, তাদের অধিকাংশই নির্দোষ, দক্ষ পুলিশ। তাদের ‘অপরাধ’- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া, বা ভালো পোস্টিং পাওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্বাস কখনোই অপরাধ হতে পারে না- পেশা যাই হোক না কেন। কিন্তু অপরাধ তখনই ঘটে, যখন কেউ নিজের পেশাগত অবস্থানকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ভূমিকা নেয় এবং ভিন্নমতকে দমন করে।
পেশাজীবীর পরিচয় হওয়া উচিত তার দক্ষতা ও নৈতিকতায়, রাজনৈতিক আনুগত্যে নয়। পেশা যখন রাজনীতির হাতিয়ার হয়, তখন ন্যায়বিচার প্রথমেই হারিয়ে যায়।
যেসব পুলিশ কর্মকর্তা জেলবন্দী হয়ে আছেন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার জন্য অথবা ২৪-এর জুলাইতে শুধুমাত্র সরকারের নির্দেশ পালন করার অপরাধে তাদেরকে বিনা বিচারে মাসের পর মাস বন্দী রাখা কিংবা চাকরীচ্যুত করা আমি সমর্থন করি না। ফৌজদারি অপরাধ করলে সেটা ভিন্ন বিষয়- আদালত দেখুক।
