যে দম্পতির ১১ বছরের অপেক্ষার সন্তান হামে মারা গেছে, যে দম্পতি মফস্বল থেকে ছুটে এসে সন্তানের জীবন বাঁচাতে চেয়েও শেষে সন্তানের লাশ নিয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছে— তাদের অভিশাপ থেকে এরা কি রক্ষা পাবে?
সাইফুল ইসলাম
হামের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই একেবারে সচেতনভাবে একটি শ্রেণির কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে দেখার চেষ্টা করেছি। বিগত সময়ে এই শ্রেণিকে দেখেছি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনায় উচ্চকণ্ঠ হতে। তারা নিজেদের নিরপেক্ষ বলে দাবি করত।
চব্বিশের জুলাইয়ে এদের মারাত্মক হিংস্র ও রূঢ় আচরণ দেখে ঠিক মিলাতে পারছিলাম না। এরা ইউনুসকে রীতিমতো পয়গম্বরের পর্যায়ে মানে। “কী ভদ্রলোক!”, “দেশের ভার এমন মানুষের হাতেই থাকা উচিত”, “সময় দিলে দেশকে একেবারে বদলে দেবেন”— এমন নানা পোস্ট ও আলোচনা চোখে পড়ত। নির্বাচনের আগে-পরে কিছুদিন তাদের সুর ছিল, ইউনুসকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশে মানুষ যখন প্রায় ভুলেই গিয়েছিল যে হামে শিশুর মৃত্যু হতে পারে, সেই হামের প্রাদুর্ভাব যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে প্রতিদিন শুধু সরকারি হিসাব অনুযায়ীই ডজন ডজন শিশুর মৃত্যুর খবর আর চেপে রাখা গেল না— তখন থেকেই ওই ইউনুস-ভক্তরা আবার ফিরে গেছে ফুল-পাখি-লতা-পাতার জগতে।
এই শ্রেণিটিই প্রকৃত বর্ণচোরা এবং বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এদের সহজে চিহ্নিত করা যায় না। এরা দেশ-বিদেশে বেশ আধুনিক জীবনযাপন করে। পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও, নিজ দেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পক্ষে পরোক্ষভাবে সমর্থন আদায়ের কাজ করে।
এই মুহূর্তে দেশে হাম ও শিশু ধর্ষণের যে মহোৎসব চলছে, তাতে এদের কিছুই যায় আসে না। এরা যেন একেবারে ভিন্ন এক গ্রহে বাস করছে। যে দম্পতির ১১ বছরের অপেক্ষার সন্তান হামে মারা গেছে, যে দম্পতি মফস্বল থেকে ছুটে এসে সন্তানের জীবন বাঁচাতে চেয়েও শেষে সন্তানের লাশ নিয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছে— তাদের অভিশাপ থেকে এরা কি রক্ষা পাবে?
