সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ডলার সংকট ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা, রিজার্ভ স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উৎসে ধারাবাহিকভাবে ঋণের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এটিই “দ্বারে দ্বারে ঘোরা” প্রপঞ্চের নির্মম বাস্তবতা।
রাষ্ট্রীয় ঋণের চিত্র: পরিসংখ্যান
মোট বহিঃস্থ ঋণ স্থিতি:ERD এর মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বহিঃস্থ ঋণ স্থিতি প্রায় ১০৫.৩ বিলিয়ন ডলার।
-GDP অনুপাতে ঋণ: IMF এর মতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ঋণ GDP এর ৪১.৭% ছুঁতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশের জন্য সহনীয় হলেও পরিশোধের চাপ বাড়ছে।
-ঋণ পরিশোধের দায়: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৫.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৪ সালে ছিল ৩.৩৭ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভের চাপ: ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। মে ২০২৬ এ BPM6 হিসাবে তা ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। আমদানি দায় ৩ মাসেরও কম।
কোথায় কোথায় হাত পাতছে বাংলাদেশ
সংস্থা/দেশঋণের ধরনপরিমাণ উদ্দেশ্য
IMF ECF, EFF, RSF ৪.৭ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ সাপোর্ট, জলবায়ু অর্থায়ন
বিশ্বব্যাংকবাজেট সহায়তা + প্রকল্প ২.২৫ বিলিয়ন ডলার সংস্কার, গ্রিন এনার্জি
ADBবাজেট + প্রকল্প ২.৬ বিলিয়ন ডলার অবকাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা
AIIB প্রকল্প ঋণ ১.১ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুৎ, সড়ক
জাইকা – জাপান প্রকল্প ঋণ ১.০ বিলিয়ন ডলার মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী
চীন প্রকল্প ঋণ ৫ বিলিয়ন ডলার চাওয়া বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ
কেন এই দ্বারে দ্বারে ঘোরা?
ডলার সংকট: রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি। হুন্ডি ও ডলারের বিনিময় হার অস্থিতিশীল।
রাজস্ব ঘাটতি, GDP অনুপাতে কর মাত্র ৭.৬%, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণই ভরসা।
মেগা প্রকল্পের দায়, পদ্মা সেতু রেল, রূপপুর, মাতারবাড়ীর মতো প্রকল্পের কিস্তি শুরু হয়েছে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় পরিশোধের চাপ বাড়ছে।
জ্বালানি ও ভর্তুকি: ডলারে LNG ও জ্বালানি তেল আমদানি এবং বিদ্যুতে ভর্তুকি দিতে বৈদেশিক মুদ্রা লাগছে।
পরিণতি ও ঝুঁকি,
Debt Servicing Ratio বৃদ্ধি.রপ্তানি আয়ের বড় অংশ ঋণ শোধে চলে যাচ্ছে, যা উন্নয়ন বাজেটকে সংকুচিত করছে।
শর্তের জালে বন্দিত্বের IMF এর শর্তে জ্বালানির দাম সমন্বয়, ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার করতে হচ্ছে। এতে জনজীবনে চাপ পড়ছে।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেট প্রণয়নেও এখন দাতাদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না এরকমভাবে। এই নিয়ে দেশের সুধী জ্ঞানী জন এবং অর্থনীতিবিদ তাদের মনে নানান ধরনের প্রশ্ন আছে। দেশের মানুষ অর্থনীতির অভাবে দিশাহারা। পরিবারের ভরণ পোষণ ঠিকভাবে দিতে পারছে না, এমনকি মাস শেষে দোকানদারের বাকি ও দিতে পারছেনা। বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ বাঁচার তাগিদে অনেক কিছু করতে হয় কিন্তু অর্থনীতির এই করুণ দশা সাধারণ মানুষকে বেহাল দশা করেছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ অর্থনীতির কবল থেকে মুক্তি চায়। বিগত শাসনামলে অর্থনীতির অবস্থা অনেক ভালো ছিল উন্নতি ছিল মানুষের ভিতরে স্বস্তি ছিল। কিন্তু বর্তমানে অর্থনীতির যে অবস্থা এই নিয়ে মানুষের ভিতরে নানান আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
