শামীম আহমেদ
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরের চিকিৎসার জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা সাহায্য দিয়েছিলেন। অর্থ সাহায্য দিয়েছিলেন খুবই মামুলি চিত্র পরিচালক, বাউল সঙ্গীত শিল্পীদের। যাদের প্রত্যেকে বিএনপি করত, এবং তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
শেখ হাসিনা যে জানতেন না, তা নয়। তিনি জেনে শুনেই সাহায্য করেছেন, কারণ তিনি জানতেন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সকল দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের দায়িত্ব তার। এটি খুব স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অস্বাভাবিক, অবিশ্বাস্য!
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের যে কোন টক-শোতে আমি সারাক্ষণ তার সরকার ও মন্ত্রী এমপিদের সমালোচনা দেখেছি। প্রথম আলোতে সপ্তাহে দুদিন ধরে বছরের পর বছর আসিফ নজরুল ও আলী রিয়াজদের মতো মাননীয় রাজাকার শাবকদের কলাম দেখেছি তার বিষোদগার করে। অথচ তার সময় নাকি বাক স্বাধীনতা ছিল না!
আমার চাচা বিখ্যাত কলামিস্ট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা Zeauddin Ahmed Bitu সাহেব প্রায়ই বলেন আওয়ামী লীগের মানুষ তাও নিজেদের সমালোচনা করে, বিএনপি-জামায়েত কখনও তা করে না।
আমি যেমনটি বলেছি জঙ্গী সাইদ, জঙ্গী হাদির মৃত্যুতে উন্নত বিশ্বে বসবাসকারী গবেষক, শিক্ষকদের মায়াকান্না আমরা দেখেছি, হামে ৪০০ শিশুর মৃত্যুতে তাদের কারও কোন কান্না আমরা দেখিনি।
শেখ হাসিনার এমনই গুণ যে বাংলাদেশের মানুষ তাকে তার সময়ে কদর না করলেও অন্য শাসকদের জুতা আর লাথি খাবার সময় বার বার মনে করবে, যতদিন যাবে তত বেশী করতে থাকবে। এটাই একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের শক্তির জায়গা।
আমি শেখ হাসিনার পূজা করি না বলে আওয়ামী লীগের দলদাস ও নেতাভৃত্যরা আমার উপর নাখোশ, কিন্তু আমি যে রাস্তায় হাঁটি, সে রাস্তায় আওয়ামী বিরোধীরাই একসময় শেখ হাসিনার উপাসনালয় বানাবে। সে পথ তৈরীর কাজটাই আমার, পূজা করা নয়।
আজ রবিবার সকালে ভারত উপমহাদেশের অন্যতম সফল রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনাকে স্মরণ করছি। কী প্রসঙ্গে সেটা হয়ত আপনারা বুঝবেন। কারও মৃত্যু কামনার মতো নিচু আচরণ করতে পারি না বলে ওই প্রসঙ্গে না গিয়েই শেখ হাসিনাকে মনে করছি। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
