নিজস্ব প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। চলতি মে মাসের প্রথম ১৬ দিনেই ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেরই হামের লক্ষণের পাশাপাশি ‘কমন রোগ’ হিসেবে ছিল তীব্র নিউমোনিয়া। মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, অধিকাংশ শিশুই সময়মতো নিউমোনিয়া প্রতিরোধক (পিসিভি) টিকা পায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৃত শিশুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু টিকার ডোজ শুরু করলেও তা নিয়মিত সম্পন্ন করতে পারেনি। মুক্তাগাছার উজ্জ্বল মিয়ার সাত মাস বয়সী শিশু সুমাইয়া ১১ মে মারা যায়। তার মা তানজিলা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, “টিকা দিতে গেলে জানাইছে টিকা নাই। দুই মাস ঘুরছি। সময়মতো টিকাটা দিলে আমার বাচ্চা নিউমোনিয়ায় মরত না।”
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ময়মনসিংহে প্রতি মাসে পিসিভি টিকার চাহিদা ৩৮ হাজার ৯০০ ডোজ। কিন্তু গত ১২ মে পর্যন্ত জেলা ইপিআই স্টোরে এই টিকার মজুত ছিল শূন্য। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে টিকার চরম সংকট শুরু হয়, যা ২০২৫ সালের শুরুতে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি চাহিদার তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১২২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) কমে যায়, যার ফলে নিউমোনিয়া দ্রুত হৃৎযন্ত্র অকার্যকর করে দেয়।
ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সল আহ্মেদ জানিয়েছেন, দেড় বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা এবং টিকার অনিয়মিত সরবরাহের কারণেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সময়ের সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও অদূরদর্শিতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
