পাকিস্তানি সেনারা এ সময় ঢাকা শহরের মহল্লায় মহল্লায় ঢুকে পাইকারিভাবে খুন করছিল নিরীহ জনসাধারণকে। যখন তখন তারা সামরিক বাহিনীর গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতো আবাসিক এলাকায়।
পাকী বাহিনীর কবল থেকে আত্মরক্ষা করতে অনেকে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তায়, গলির মোড়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। যদিও হত্যার মচ্ছবে পাকী সেনাদের কাছে কোনো বাধাই বাধা ছিলো না; তবু সাময়িকভাবে বাঁচার জন্য তারা এ ব্যারিকেড তৈরি করেছিল।
এদিন রেডিও পাকিস্তানের খবরে বলা হয়, ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক কর্তৃপক্ষ শহরের অধিবাসীদের নিজ নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। ঘোষণায় আরো বলা হয়, এ নির্দেশ অবশ্য পালনীয় এবং যারা ব্যারিকেড সরাতে বাধা দিবে তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।
এ নির্দেশ চট্টগ্রামের জন্যেও বিশেষভাবে প্রযোজ্য বলে ঘোষণা করা হয়। ধর্মব্যবসায়ী জামাতের প্রধান মালানা মওদুদী ভারতের ভূমিকাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা করে। এদিন এক বিবৃতিতে জামাতপ্রধান বলেছিল, ভারত পাকিস্তান সম্পর্কে ঘৃণ্য প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে খবরদারি করছে। সে বলেছিল, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকাসহ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। এসব হচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইন্দো-ইসরাইলী ষড়যন্ত্র।
পাকিস্তানি গণহত্যার বিরুদ্ধে ভারতীয় পার্লামেন্ট প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাকিস্তান কাউন্সিল মুসলিম লীগ সভাপতি মিয়া মমতাজ দৌলতানা একে পাকিস্তানের সংহতি ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত এবং নির্লজ্জ হুমকি বলে উল্লেখ করে।
এদেশের স্বাধীনতাকামীদের খতম করার জন্যে পশ্চিম-পাকিস্তান থেকে সামরিক বিমান আনা হচ্ছিল। জ্বালানি সংগ্রহের ঘাঁটি হিসেবে বিমানগুলো সিংহল বিমান বন্দরকে বেছে নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যে এগুলো ব্যবহার করা হবে পাকিস্তান সরকার তা অস্বীকার করে।
এদিন রেডিও পাকিস্তানের খবরে বলা হয়, ব্যাপক সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক পূর্ব-পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করছে। সরকারি মুখপাত্র জানান, সরকার এদের সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রেখেছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
ঢাকা শহরসহ বড় বড় শহরে কারফিউ চলছিল। ঘোষণা করা হয়, সরকারি ঘোষণা অথবা বিজ্ঞপ্তি না দেয়া পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকবে।
(তথ্যসুত্র: দৈনিক পূর্বদেশ, ধর্মব্যবসায়ী ঘাতক জামাতীদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম, ১-৩ এপ্রিল ১৯৭১ ঈসায়ী।)
ছবিঃ ২ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে কলকাতা হতে প্রকাশিত যুগান্তর পত্রিকায় পাকিস্তানী হানাদারদের গণহত্যার প্রকাশিত একটি ছবি।
